নয়াদিল্লি: দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাড়ছে আরোগ্যের হার। শুক্রবার এমনই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। তিনি এদিন বলেন কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কারণ দেশে এখন আরোগ্যের হার ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে মৃত্যুর হার মাত্র ২.৭২ শতাংশ।

শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন নয় কেন্দ্র। কারণ এই বিষয়টিকে সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখা উচিত। করোনার পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে, তাই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভারতের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখেই এই আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করা উচিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান প্রতিদিন দেশে ২.৭ লক্ষ টেস্ট করা হচ্ছে।

এত বড় জনসংখ্যার দেশ হয়েও ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়নি বলে এদিন জানান হর্ষ বর্ধন। দেশে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। প্রতিদিনই প্রায় রেকর্ড হারে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ক্ষেত্রেও তাঁর ব্যতিক্রম হল না। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আক্রান্ত প্রায় ২৬ হাজার ৫০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪৭৫ জনের।

ফের নতুন করে সংক্রমণের জেরে দেশে এখন মোট সংক্রামিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮০২ জন। এর মধ্যে অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে ২ লক্ষ ৭৬ হাজারের বেশি। সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৯৫ হাজার।

গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৬০৪ জনের। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে মৃতদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বয়সই ৪৫ বছরের ওপরে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে ৫৩% মৃতের বয়স ৬০ বছরের বেশি। দেশে বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ২৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৪৫ এর ওপরে। করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর ৮৫ শতাংশ এই বয়সেরই। দেশে ৬০ থেকে ৭৪ এর মধ্যেকার বয়সী মানুষ রয়েছে মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ। করোনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাঁর মধ্যে এই বয়সের মানুষ রয়েছে ৩৯ শতাংশ।

হর্ষ বর্ধনের দাবি দেশের কোথাও থেকে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের খবর মেলেনি। কিছু অঞ্চল বেশি মাত্রায় করোনা আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কোনও খবর নেই। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করোনার সাথে লড়াই করতে হবে।

তিনি বলেন মিডিয়া বলছে বিশ্বে করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ভারত তিন নম্বরে। কিন্তু এই তথ্যকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখা দরকার। এ দেশে এত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে, কারণ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারত। প্রতি দশ লক্ষে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ৫৩৮, গোটা বিশ্বে সেখানে ১,৪৫৩।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ