স্টাফ রিপোর্টার, ব্যরাকপুর: রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা এখন গোটা দেশের কাছে মডেল। পরিসংখ্যান দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রামউন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিনিধিদল। শুধু শহর নয়, গোটা দেশের মধ্যেই বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থায় দেশের সেরা রাজ্য পশ্চিমবাংলা।

কেন্দ্রীয় গ্রামউন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে দেশের তথা রাজ্যের মধ্যে চলতি বছরে উন্নয়নের নিরিখে এবং নাগরিক পরিষেবায় চলতি ২০১৮/১৯ আর্থিক বর্ষে এগিয়ে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর ২ নম্বর ব্লকের খড়দা বিধানসভার অন্তর্গত বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।

শুক্রবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার এই বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিদর্শনে এসে রাজ্যের পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা যে গোটা দেশের কাছে মডেল এবং দেশ সেই কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করছে তা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোউন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রকের অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সচিব ড: বালা প্রসাদ। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ইতিমধ্যেই দেশের মডেল গ্রাম পঞ্চায়েত হিসেবে বিগত বছরে পরিগণিত হয়েছে। বাংলার গ্রাম পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা অনেক উন্নত। বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত চলতি আার্থিক বছরে খুব ভালো কাজ করেছে। কিভাবে এই অঞ্চলে উন্নয়নের কাজ হচ্ছে তা দেখতেই আমরা এসেছিলাম। দেশের বিভিন্ন উন্নত গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির কর্মপদ্ধতি আমরা পরিদর্শন করছি। বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ভালো কাজ করছে।”

ড: বালা প্রসাদের নেতৃত্বে শুক্রবার ৬ জনের এক কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল আসেন উত্তর ২৪ পরগনার খড়দা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত পরিদর্শনে। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত উত্তর ২৪ পরগনার এই গ্রাম পঞ্চায়েতটি চলতি আার্থিক বর্ষে গ্রাম উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবায় দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত গুলি উন্নয়নের কাজ করছে। খড়দা বিধানসভা কেন্দ্রটি রাজ্যের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রের বিধানসভা কেন্দ্র।

এই বিধানসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের নিরিখে কার্যতঃ গ্রাম ও শহরের কোন পার্থক্য নেই। ঝাঁ চকচকে রাস্তা, আলো, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজে মহিলাদের ১০০ শতাংশ সাফল্য, পরিশ্রুত পানীয় জল সবেতেই উন্নয়নের ছোঁয়া। চলতি আার্থিক বছরে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে এই বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েতের স্বচ্ছতা প্রশ্নাতীত। খড়দার বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে। এই আ্যপের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের সমস্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় বরাদ্দ নিয়মিত আপডেট করা হয়। গ্রামের মানু্ষের কোন ক্ষোভ নেই।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ১১ টি গ্রাম সংসদ এলাকাতেই গঠিত হয়েছে পাড়া কমিটি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নাগরিকেরই বসবাস বেশী বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। সেই গ্রাম পঞ্চায়েতই এবার দিশা দেখাচ্ছে গোটা দেশকে।

বারাকপুর ২ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনামিকা বেরা বললেন, ‘বিগত আর্থিক বর্ষে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত গোটা দেশের কাছে মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিগত আর্থিক বছরেও আমরা ভালো কাজ করেছিলাম। এবছরও আমাদের দৈনন্দিন উন্নয়নের কাজ চলছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে আমাদের এই গ্রাম পঞ্চায়েত যে ভালো কাজ করছে তার প্রমান আজকে এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের পঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিদর্শনে আসা।’

ইতিমধ্যেই বন্দীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ প্রশংসিত হয়েছে বিশ্ব ব্যংকের কাছেও। সূত্রের খবর, বিশ্বব্যাংকও এই গ্রাম পঞ্চায়েতকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।