নয়াদিল্লি: সাত বছর ধরে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন পাকিস্তানে। অধিকৃত কাশ্মীরের বিক্ষুব্ধদের কাছ থেকে জোগাড় করেছেন তথ্য। এমনকি একসময় ভারতের গুরুদোয়ারায় জঙ্গিদের সন্ধান চালাতে রিকশাওয়ালার ছদ্মবেশও ধারণ করেছিলেন তিনি।

দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরেই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তাই সেই অজিত দোভালকেই মনে করেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। তিনিই বর্তমানে বিদেশনীতিতে মোদীর গুটি সাজাতে সাহায্য করছেন। একাধিক ইস্যুতে অজিত দোভালই সবথেকে ভরসার জায়গা মোদী সরকারের কাছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদের জন্য দোভালকে বেছে নিয়ে ছিলেন মোদী। প্রতিরক্ষা কিংবা বিদেশমন্ত্রীর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই পদ। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার সবার সামনে মোদী দোভালকেই রাখেন। দোভালের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখেন এস জয়শঙ্করও। খুব কমই জনসমক্ষে আসেন দোভাল। তাঁর অফিস জানায়, কোনও ইন্টারভিউ-র জন্যও পাওয়া যায় না তাঁকে।

তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পাবলিসিটি পছন্দ করেন না দোভাল। এই মুহূর্তে দেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যুগুলো তিনিই দেখছেন বলেও জানা গিয়েছে। দায়িত্বে আসা পরই দোভালকে আফগানিস্তানে পাঠান মোদী, নিয়ে যান ভুটান সফরেও। চিন সীমান্তে বিতর্কিত অংশ নিয়ে কথা বলার দায়িত্বেও রয়েছেন দোভাল। বছরখানেক আগে হওয়া পাক নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে এক গোপন বৈঠকের উদ্দেশে ব্যাংককে উড়ে যান দোভাল। সম্পূর্ণটাই হয় গোপনে।

ভারতের জেমস বন্ড:

ভারতের জেমস বন্দ হিসেবেই পরিচিত অজিত দোভাল। তাঁর জীবনকে কেন্দ্র করে জড়িয়ে আছে একাধিক গল্প। ১৯৮৮ তে গোল্ডেন টেম্পলের সেনা অভিযান চালানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দোভাল।

প্রাক্তন সেনা অফিসার করন খার্ব জানান, সেইসময় স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে ঢোকার জন্য রিকশাওয়ালার ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন দোভাল। খালিস্তানি জঙ্গিদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে তিনি আসলে একজন পাকিস্তানি, যিনি ওই জঙ্গিদের সাহায্য করতে এসেছেন। এই বলে ভিতরে ঢোকেন তিনি।

একসময় যখন পুলিশ ভেবেছিল স্বর্ণমন্দিরের ভিতরে ৪০ জন রয়েছে, তখন দোভাল এসে জানান আসলে রয়েছে ২০০ জন। তিনি পরামর্শ দেন সেনা অভিযান না চালিয়ে মন্দিরের জল ও ইলেকট্রিকের লাইন যেন কেটে দেওয়া হয়। প্রবল গরমের মধ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়ায় ন’দিন পরে আত্মসমর্পণ করে জঙ্গিরা। রাজনাথ সিং-এর পাকিস্তান সফরের পরে দোভালের অপসারণের সওয়াল ওঠে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সেই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়।

কোনও সরকারি ওয়েবসাইটে দোভালের প্রোফাইল পাওয়া যায় না। একসময় এক জায়গায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৪৫-এ তাঁর জন্ম গাড়োয়ালে। ১৯৬৭ তে অর্থনীতিতে এমএসসি করেন দোভাল। এরপর যোগ দেন পুলিশে। ১৯৭২-এ তিনি যোগ দেন আইবিতে।

সেখানেই কাজ করেছেন ৩০ বছর। কাশ্মীর কিংবা উত্তর-পূর্ব ভারতে নজরদারি চালাতে একাধিকবার গিয়েছেন তিনি। উর্দু ভাষাতেও দক্ষ দোভাল।

২০১৪-র নভেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের জেলে সাত বছর কাটিয়েছিলেন তিনি। তিনি হিন্দু নয়, এটা প্রমাণ করতে একটা ছোট প্লাস্টিক সার্জারিও করিয়েছিলেন তিনি। দোভালের ঘনিষ্ঠরা জানান, তাঁর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, বেসমেন্টে রয়েছে কয়েক’শ বইয়ের লাইব্রেরি। সেখানেই ডুবে থাকতে ভালোবাসেন তিনি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ