নয়াদিল্লি: বুধবার রাতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নোভেল করোনা ভাইরাসকে ‘বিশ্ব মহামারী’ বলে চিহ্নিত করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে COVID-19 থাবা বসিয়েছে ১১৪টি’রও বেশি দেশে। এমন জরুরি অবস্থায় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্পোর্টিং ইভেন্টেও প্রভাব পড়েছে বিরাট। তাই দেশের মাটিতে আগামি দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হতে চলে বিভিন্ন স্পোর্টিং ইভেন্ট আয়োজন করা নিয়েও প্রচ্ছন্ন নির্দেশিকা দিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। আর সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামি শনিবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগের হাইভোল্টেজ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দর্শকহীন ফাঁকা গ্যালারিতে।

দেশের মাটিতে এই মুহূর্তে কোনও স্পোর্টস ইভেন্টে যেন দর্শক বা আমজনতার প্রবেশাধিকার না থাকে। এই মর্মে করা একটি বার্তা ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বিসিসিআই, এআইএফএফ সহ দেশের অন্যান্য স্পোর্টস গভর্নিং বডির কাছে পৌঁছে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। আর ক্রীড়ামন্ত্রকের এই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই আইএসএল ফাইনাল ফাঁকা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে ভারতের ফুটবল ফেডারেশন। অর্থাৎ, ক্লোজ-ডোর স্টেডিয়ামেই আগামি শনিবার মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে এটিকে ও চেন্নাইয়িন এফসি।

গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাঁকা গ্যালারিতে আইএসএল ফাইনালের পাশাপাশি করোনা আতঙ্কে ক্লোজ-ডোর হতে পারে আগামি রবিবার কলকাতা ডার্বিও। তবে এব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এশিয়ার প্রাচীন এই ডার্বিতে গ্যালারিতে দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকা পালন করেন দু’দলের সমর্থকেরাই। তাই ফাঁকা গ্যালারিতে ম্যাচ হলে দু’দলের ফুটবলারদের মোটিভেশনের অভাব হবে জেনেও ঝুঁকি নিতে রাজি নন কেউই। কেন্দ্রীয় ক্রিড়ামন্ত্রকের নির্দেশ মেনে এআইএফএফ যদি ফাঁকা গ্যালারিতে ডার্বি আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে সেটাই মেনে নিতে হবে দু’প্রধানকে।

উল্লেখ্য, আগামি রবিবার কলকাতা ডার্বির আয়োজক ইস্টবেঙ্গল। ফাঁকা গ্যালারির পাশাপাশি ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার অপশন থাকলেও তাতে বিশেষ রাজি নয় দু’প্রধান। সেক্ষেত্রে জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে সহযোগিতা করার বার্তা মোহনবাগান কর্তা সৃঞ্জয় বোসের গলায়। তাঁর কথায়, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছি। এমন অবস্থায় ফাঁকা গ্যালারিতে ম্যাচ হলে একটু অসুবিধে হতেই পারে। তবে ফুটবলাররা যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।’

সরকারি মতে মহামারি করোনা কারও প্রাণ না কাড়লেও আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ জন। বৃহস্পতিবার লে’তে নতুন করে একজনের শরীরে COVID-19 পজিটিভ ধরা পড়েছে।