উহান: করোনা সংক্রমণের মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু ভয় না পেয়ে করোনার উৎসস্থল উহানে ছিলেন বেশ কয়েকজন ভারতীয়। প্রায় তিন মাসের যুদ্ধ শেষে মুক্তি পেয়েছে সেই উহান। এরপরই অভিজ্ঞতার কথা বললেন তাঁরা।

সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুণজিৎ সাথরাজিত নামে এক গেবষক জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। একইসঙ্গে ভারত কীভাবে বাঁচতে পারে সেই পরামর্শও দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, কড়া লকডাউনের মাঝে ছিলেন তিনি। ৭৩ দিন বেরোননি বাড়ি থেকে।। শুধু নিজের ল্যাবে গিয়েছিলেন সেটি বন্ধ করতে, তাও অনুমতি নিয়ে। এই কয়েকদিনে বিশেষ কথাও বলেননি কারও সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, এত দিন এত কম কথা বলেছেন যে এখন যেন কথাই বেরচ্ছে না মুখ দিয়ে।

তিনি বারবার বলেছেন, করোনা ঠেকাতে সর্বোত্তম উপায় হল নিজেকে গৃহবন্দি রাখা। লকডাউন এবং সেলফ আইসোলেশনই বাঁচার একমাত্র উপায়।

চিন থেকে ভারতীয় সহ আরও বিদেশিদের ফিরিয়ে আনতে এয়ার ইন্ডিয়া ২টি বিশেষ বিমান চিনে পাঠায়। ৭০০ জনকে ফিরিয়েও আনা হয়। তবে অরুণজিৎ ফেরেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, খারাপ সময়ে এভাব পালিয়ে যাওয়া ভারতীয়ের কাজ নয়। তাছাড়া ভারতে রয়েছেন তাঁর বয়স্ক বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান। তাঁদেরও সংক্রমণের ভয় রয়ে যেতে পারে। তাই না ফেরার সিদ্ধান্তই নেন অরুনজিৎ।

মাইক্রোবায়োলজিস্ট তথা হাইড্রোলজিস্ট অরুণজিৎ বলেন,”দেশ জুড়ে লকডাউন জারি করে একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তবে, বিপদ বাড়তে পারে বর্ষাকালে। সেইসময় মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে, সমস্যা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে।”

তাঁর সঙ্গে একই ভাবে ১১ সপ্তাহের দীর্ঘ করোনাবন্দি জীবন কাটিয়েছেন আরও এক ভারতীয় বিজ্ঞানীও। তাঁর কথায়, “৭২ দিন নিজেকে ঘরে আটকে রেখেছি। আমার প্রতিবেশীদের ৩টি সন্তান রয়েছে। আমি এই সময়ের মধ্যে একদিনও বাড়ি থেকে বেরতে দেখিনি দেখিনি। বেঁচে আছি, এটা ভেবেই আমি আজ খুশি।”

তাঁদের দাবি, চিন করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করতেই বড্ড দেরি করে ফেলেছে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত অনেকেই এই ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছেন এবং তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীর কথায়, “ভাইরাসকে চেনা সহজ কাজ ছিল না। চিনাদের এতোটা সময় লাগল কারণ তাঁদের এমন ভয়াবহতা নিয়ে কোনও ধারনাই ছিল না।” আরও আগে উহানে লকডাউন হলে এভাবে বিশ্ব মহামারীর আকার ধারণ করতে পারত না বলেও মনে করেন তাঁরা।

অরুণজিৎ-কে তাঁর গবেষণার জন্য চিনের অনেক গ্রামীণ অঞ্চলে যেতে হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, প্রাণী থেকেই এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে।