নয়াদিল্লি: ট্রেন ভাড়া ছাড়াও লাগবে অতিরিক্ত টাকা। যাকে বলা হচ্ছে ইউজার ফি। এবার ভাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অতিরিক্ত টাকা ধার্য করার কথা জানানো হল রেলের তরফে।

তবে সব স্টেশনের ক্ষেত্রে নয়, যেসব স্টেশনে বহু মানুষের সমাগম, সেখানেই এই অতিরিক্ত টাকা ধার্য করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

রেলবোর্ডের সিইও ভিকে যাদব জানিয়েছেন, ভারতীয় রেল এবার থেকে ইউজার ফি নেওয়া শুরু করবে। আর সেই টাকায় রেল স্টেশনের উন্নয়ন করা হবে। আধুনিকিকরন করা হবে।

সিইও জানিয়েছেন, যেসব স্টেশনে বেশি যাত্রীর আনাগোনা সেখানেই এই চার্জ নেওয়া হবে।মোট ৭০০০ রেল স্টেশনের মধ্যে ১০-১৫ শতাংশ স্টেশনে এই ফি নেওয়া হবে। অর্থাৎ ৭০০ থেকে ১০০০ রেকল স্টেশনে এই ফি নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কত টাকা ইউজার ফি নেওয়া হবে, তা এখনও ধার্য করা হয়নি।

ঠিক যেম বিমানের যাত্রীদের কাছ থেকে ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া হয়, সেরকমই ইউজার ফি নেওয়া হবে রেল যাত্রীদের কাছ থেকে। এক এক শহরে এক এক রকম ফি ধার্য করা হবে।

তবে এতে রেল ভাড়ায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন রেল বোর্ডের সিইও। ন্যুনতম চার্জ ধার্য করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, নতুন করে চালানো হবে ২০ জোড়া বা ৪০টি ট্রেন। মঙ্গলবার যাত্রীদের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে রেল মন্ত্রক। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এই ট্রেনগুলি চালানো হবে।

জানা গিয়েছে এর মধ্যে ১৯ জোড়া ট্রেনের ক্ষেত্রে টিকিটের দাম হবে হামসফর এক্সপ্রেসের সমান। আর লখনউ থেকে দিল্লিগামী ট্রেনের টিকিটের মূল্য হবে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের টিকিটের দামের সমান। ১০ দিন আগে থেকে ট্রেন বুক করা যাবে।

যেসব রুটে দেখা যাচ্ছে যে ওয়েটিং লিস্টে লম্বা লাইন, টিকিটের ব্যাপক চাহিদা, সেইসব রুটেই এই ট্রেন চালানো হবে।

ইতিমধ্যেই ৩১০ টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। তবে সব স্টেশনে থামানো হচ্ছে না ট্রেনগুলি।

চলতি মাসের শুরুতে একগুচ্ছ নতুন স্পেশাল ট্রেন চালাচ্ছে রেল। নতুন ৮০টি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে।

যাত্রীদের স্বার্থে এই ৪০ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই এই সমস্ত নতুন স্পেশ্যাল ট্রেনের টিকিট বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে মাত্র ৭৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে স্পেশ্যাল ট্রেন চালাচ্ছে রেল মন্ত্রক। এই মুহূর্তে সারা দেশে যে ক’টি স্পেশ্যাল ট্রেন চলছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। ফলে যাত্রীদেরও বিপুল সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্পেশ্যাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছিল রেল মন্ত্রক।

প্রতিটি ট্রেনের টিকিটের চাহিদার উপরে নজর রাখছে রেল। যে সমস্ত ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট দীর্ঘ পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান কিছুদিন আগে বলেন, ‘যে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবথেকে বেশি, যে ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট দীর্ঘ সেই সমস্ত ট্রেনের ক্ষেত্রে আমরা ক্লোন ট্রেন চালাবো। প্রকৃত ট্রেনের আগে এই ক্লোন ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেবে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক যাত্রী সফর করতে পারবেন। ফলে ওয়েটিং লিস্ট কমবে।’

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।