ফুকুওকা (জাপান): এবার জাপানকে অনুসরণ করবে ভারত৷ জাপানের ধাঁচেই তৈরি হবে ভারতীয় বুলেট ট্রেনের সিস্টেম৷ শিনকানসেন ট্রেন অর্থাৎ জাপানের বুলেট ট্রেন৷ যেগুলির সাফাইয়ের জন্য কর্মীরা সময় পান মাত্র সাত মিনিট৷ অর্থাৎ, কাজ হয় বিদ্যুৎবেগে৷ সেই গতিকেই এবার অনুসরণ করবে ভারতীয় রেলওয়ে৷ শুধু তাই নয়, জাপানের এই বুলেট ট্রেনগুলিতে যাত্রার সময় খুব কম লাগেজ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়৷ সে বিষয়টিকেও অনুকরণ করার চেষ্টা করছে ভারত৷

জাপানের এই পদ্ধতি শিখতে লোক পাঠাতে চায় ভারত৷ যাদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে শেখানো হয়ে বিষয়টি৷ আর, সেটিকেই দেশের মাটিতে ব্যবহার করা হবে পরবর্তী সময়ে৷ তবে, জাপানের সিস্টেম সত্যিই মুগ্ধকর৷ যাকে বলে একেবারে নিখুঁত৷ সে সাত মিনিটে ক্লিনিং ক্রুর পুরো ট্রেন সাফাই পর্বই হোক কিংবা যাত্রাদের লাগেজ ব্যাগের বিষয়টি৷ জাপানে খুব কমই যাত্রীদের একের বেশি ব্যাগ নিয়ে যাতাযাত করতে দেখা গিয়েছে৷

প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে জাপান৷ একথা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রজেক্টটিকে বাস্তবায়িত করছে ন্যাশানাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন৷ আর, এই ন্যাশানাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার ব্রিজেস দিক্সিট বলেন, ‘বোর্ডিং এবং ডি-বোর্ডিয়ের সময় অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়৷ আর, সেজন্যই এই অনুকরণটি করতে চলেছে ভারত৷’

দিক্সিট যোগ করেন, ‘সাধারণ মানুষের কার্যক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে জাপান৷ আর, এইরকম ইতিবাচক ভঙ্গিকে ভারতের অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত৷ আমাদের অফিসাররা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে৷ আশা করছি, তারা এই পদ্ধতিটিকে ভারতের জন্য ব্যবহারে সক্ষম হবে৷’ হাই স্পিড ট্রেনগুলির ক্লিনিং ক্রুদের বলা হয় ‘সেভেন মিনিট মিরাকেল ওয়ার্কার’৷ যারা কাজ করে একেবারে ঝড়ের গতিতে৷

ফিউচার রেলওয়ে রিসার্চ সেন্টারের প্রফেসর রর্ডাররিক স্মিথ জানাচ্ছে, শুধুমাত্র পদ্ধতিকে অনুসরণ করলেই হবে না৷ সম্পূর্ণ সাফল্যের জন্য ভারতকে মানতে হবে জাপানের নিয়মকানুনগুলিকেও৷ জাপানের রাস্তায় কিংবা ট্রেনের মধ্যে খুব কম সময়ই মানুষকে ব্যাগ টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়৷ সেজন্যও রয়েছে আলাদা সিস্টেম৷ যেটির মাধ্যমে যাত্রীদের ব্যাগ নির্দিষ্ট জায়গা থেকে পিক-আপ এবং ড্রপ করে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷