নয়াদিল্লি: আর এক বছরের মধ্যেই চিন সীমান্তে পৌঁছে যাবে ভারতীয় রেল। শুধু চিন সীমান্ত নয়, পশ্চিমে রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর। দুই শত্রু শিবিরের মাঝে ‘স্যান্ডুউইচ’ অবস্থায় বিরাজ করবে ভারতীয় রেল।

জিপিএস ব্যবহার করে লাইন সুরক্ষিত করতে তৎপর রেল

গত বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে মানালি হয়ে লাদাখের লে পর্যন্ত রেলপথ বসানোর পরিকল্পনা করে ভারতীয় রেল। পরিকল্পনা অনুসারে উক্ত এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করে রাইটস। রেল মন্ত্রকের সঙ্গে ওই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কারণ, সীমান্ত লাগোয়া সংবেদনশীল এলাকায় রেললাইন বসানোর ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে জড়িত। রেল মন্ত্রকের তরফ থেকে বরাদ্দ করা হয় ৪০ কোটি টাকা। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করে প্রায় চার গুণ ১৫৮ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে বিরাদ্দ করা হয় এই অর্থ।

প্রকল্প পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে নোয়া সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রাইটস কর্তাদের। ৩২ হাজার স্কোয়ার কিলোমিটার রেললাইন পাততে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় একটি টিলা। যার জেরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এই রেলপথ নির্মাণে জটিলতার জন্য নানাবিধ কারণ দেখিয়েছেন ভূ-বিদ, ইঞ্জিনিয়র এবং সেতু তত্ত্বাবধায়কেরা। ভূ-বিদদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, লাদাখের যে এলাকা দিয়ে রেললাইন যাওয়ার কথা ছিল সেই জায়গায় প্রচুর পরিমাণ শুষ্ক গ্রাণাইট শিলা রয়েছে। যা কেটে রেলপথ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। ইঞ্জিনিয়রদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে ওই এলাকায় রেললাইন বসাতে গেলে তা রাস্তার দিকে উঠে পড়বে। অনেকে আবার টিলার ভিতর দিয়ে টানেল কাটার প্রস্তাব দিয়েছিল। ঠিক যেমন রয়েছে দক্ষিণ ভারতের অন্ধপ্রদেশের আরাকু উপত্যকায়। কিন্তু, লাদাখের এই টিলার আয়তন এতোটাই কম যে তার ভিতর দিয়ে টানেল করে রেলপথ নির্মাণ নির্মাণ প্রায় অসাধ্য।

এই সকল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়ে নভা উপায় অবলম্বন করার কথা ভাবছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকেরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত রেলপথ যে তৈরি হওয়া সম্ভব নয় তা বিলক্ষণ টের পেয়েছেন রাইটসের কর্তারা। তবে যেভাবেই হোক আঘামী বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্তারা। প্রকল্প পর্যবেক্ষণকারী দলের মতে, “প্রয়োজনে এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যায় হতে পারে এই একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে।” খরচ যেমনই হোক না কেন লাদাখে রেল চালাতে বদ্ধ পরিকর নয়াদিল্লি।

- Advertisement -