নয়াদিল্লিঃ  দ্বিতীয়বারের জন্যে ফের দিল্লির মসনদে নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয়বারের জন্যে নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় ফেরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকমহলের মতে মোদীর এই শাসনকালে বেশ কিছু চমক অপেক্ষা করছে দেশবাসীর জন্যে। আর সেই চমক প্রথম হতে পারে ভারতীয় রেলে। ইতিমধ্যে ট্রেন-১৮ অর্থাৎ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আর সেই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে দেশবাসীর জন্যে রেলে বড় চমক দিতে চলেছে মোদী সরকার। চলতি বছরের মধ্যেই ভারতের ট্র্যাকে ছুটতে চলেছে সেমি হাইস্পিড ট্রেন-১৯।

বলা হচ্ছে, দেশের প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের আরও আধুনিক রূপ হবে এই ট্রেন-১৯। ইতিমধ্যে রেলের কারখানায় অত্যাধুনিক এই সেমি-হাইস্পিড ট্রেনের কাজ চলছে। জানা যাচ্ছে, একাধিক রুটের জন্যে প্রায় ৪০টি এমন ট্রেন তৈরি করা হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, যাত্রী সাছন্দ এবং আরও নিরাপদ করতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারতীয় রেল। আর সেজন্যে প্লেনের মতোই এবার ট্রেনেও ব্ল্যাক বক্স লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। শুধু তাই নয়, সমস্ত ট্রেনে সিসিটিভি লাগানোর ব্যবস্থাও করতে চলেছে রেলওয়ে। আগামী অগস্ট থেকেই সমস্ত ট্রেনে তা লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি বেশ কয়েকটি ট্রেনে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থাও করা হতে পারে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনই সমস্ত ট্রেনে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট কয়েকটি ট্রেনেই বিনামূল্যে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করবে রেল।

ব্ল্যাক বক্সের সুবিধা প্লেনে থাকে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটদের কথাবার্তা তাতে রেকর্ড করা থাকে৷ মূলত এবার সেই কায়দাতেই ব্ল্যাক বক্স লাগানোর ব্যবস্থা ভারতীয় রেলে। বিমানের কায়দাতে ট্রেনে যে সমস্ত ব্ল্যাক বক্স থাকবে সেখানে অডিয়ো ও ভিডিয়ো দুটিই রেকর্ড করা থাকবে৷ যে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা হলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, ট্রেন চালকের কোনও ভুল ছিল কি না৷ এর ফলে চালক, ট্রাফিক কন্ট্রোলের কর্মীরা সকলেই সচেতন থাকবেন। তাতে আগামীদিনে ট্রেন দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে বলে আশা রেলের। শুধু তাই নয়, যাত্রীরা অনেক নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে যাবে বলে দাবি রেল আধিকারিকদের।

দুর্ঘটনার পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তাতেও বিশেষ নজর দিতে চাইছে ভারতীয় রেল। বিশেষত রাতের ট্রেনে বহু ঘটনা ঘটে থাকে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই রেলকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন রেলকর্মীরা। সমস্ত কামরায় এই সিসিটিভি থাকলে প্রতি নিয়ত নজরদারি চালানো যাবে। মহিলা সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই সিসিটিভি বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দিল্লি মেট্রোর সমস্ত কামরায় সিসিটিভি বসানো হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই ৭২০০ প্রধান ট্রেন ও মুম্বইয়ের শহরতলির ট্রেনে সিসিটিভি বসে যাবে৷ একই সময়সীমার মধ্যে ৬১২৪টি স্টেশনেও সিসিটিভি ক্যামেরা বসে যাবে৷ ধীরে ধীরে দেশের সমস্ত ট্রেনের এই সুবিধা যাতে চালু করা যায় সেই টার্গেটই নিয়েছে রেল।

প্রসঙ্গত, গত পাঁচ বছরে রেলের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে মোদী সরকার। নতুন প্রকল্প কম, বরং রেলের সমস্ত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দিয়েছে রেলমন্ত্রক। সেভাবেই আগামী পাঁচ বছর দেশের বযবস্থাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে যায় দ্বিতীয় মোদী সরকার। যাতে মানুষ রেলকে গালিগালাজ নয়, বরং ভারতের রেলের জন্যে গর্ব করে।