নয়াদিল্লি:  গত কয়েকদিন আগে ভারত সফরে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই সফরে ভারতের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে চুক্তি হয় বাংলাদেশের। যার মধ্যে অন্যতম হল যৌথভাবে একটি ‘কোস্টাল সার্ভেল্যান্স’ বা উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা। যদিও ভারত এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই এখনও পর্যন্ত জানানো হয়নি।

তবে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে এই সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারত একটি আধুনিক রেডার সিস্টেম বসাতে সাহায্য করবে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে ‘মেরিটাইম সিকিওরিটি’ বা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই রেডার ব্যবস্থার কাজ কী হবে? সমুদ্রপথে কোনও জঙ্গি হামলার চেষ্টা হলে তার আগাম খবর পেয়ে যাওয়া সম্ভব এই ধরনের সিস্টেমের সাহায্যে। জানা গিয়েছেম বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি হবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত এবং বাংলাদেশের এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলে ভারত যে ধরনের রেডার সিস্টেম বসানোর কাজ করবে, প্রায় একই ধরনের সিস্টেম ভারত এর আগে মরিশাস, সেশেলস, মালদ্বীপের মতো ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে বসিয়েছে। তা ছাড়া আগামীদিনে মায়ানমার উপকূলেও ভারতের পক্ষ থেকে আর একটি এই ধরনের রেডার সিস্টেম বসানোর কথাবার্তা চলছে।

এই ধরনের সমঝোতা আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি ‘হোয়াইট শিপিং এগ্রিমেন্ট’ তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারেও বলা হচ্ছে। দুটো দেশের মধ্যে এই ধরনের চুক্তি থাকলে তাদের নৌবাহিনী পরস্পরের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল নিয়ে যাবতীয় তথ্য আগেভাগেই নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদান করে থাকে।

এই রেডার সিস্টেমের বিষয়ে ভারত এবং বাংলাদেশের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। তবে সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে অত্যাধুনি এই রেডারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ভারত সাগরের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে যে অত্যাধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার আসল উদ্দেশ্য চিনের নৌবাহিনীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা। পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছে, বাংলাদেশে সামরিক ক্ষেত্রে চিন প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কার্যত তা রুখতেই ভারতের এই মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে।