নয়াদিল্লি: ভারতীয় নৌসেনার অন্যতম সদস্য রণতরী INS Kalvari. নৌবাহিনীর সাবমেরিন অপারেশনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেই শক্তিশালী রণতরীর একটি ফুটেজ প্রকাশ করে ছিল ভারতীয় নৌসেনা।

ভিডিওটি তে প্রথমেই দেখানো হয়েছে মুম্বইয়ের মাজাগন ডক লিমিটেডের তৈরি এই রণতরী প্রথম কিভাবে জলে নামল। টাইগার সার্কের নামে নাম দেওয়া এই সাবমেরিনের পুরো অপারেশন দেখানো হয়েছে এই ভিডিওতে।

পেরিস্কোপের মাধ্যমে দেখে সাবমেরিন জলের নিচে ডোবানোর নির্দেশ দিচ্ছেন ক্যাপ্টেন। আর অনায়াসে সেটি তলিয়ে যাচ্ছে গভীর সমুদ্রে। এরপর কিভাবে শত্রুপক্ষের জাহাজ লক্ষ্য করে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ছোঁড়া হচ্ছে, সেটাও দেখানো হয়েছে।

এটিই নৌসেনার প্রথম সাবমেরিন, যাতে রয়েছে এয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট প্রপালসান। অর্থাৎ, এটি চালানোর জন্য পরিবেশ থেকে কোনও অক্সিজেন নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে আরও বেশি সময় ধরে এটি জলের তলায় থাকতে পারবে আর শত্রুরা কোনোভাবেই এটিকে চিহ্নিত করতে পারবে না। এটি একটি অ্যাটাক সাবমেরিন। এতে ১৮টি টর্পেডো বহনের ক্ষমতা রয়েছে। ডিআরডিও-এর জন্য বিশেষ ধরনের টর্পেডো তৈরি করেছে, যার নাম ‘বরুণাস্ত্র’। এর ওজন ১৫০০ কেজি। আট মিটার লম্বা টর্পেডোগুলির রেঞ্জ ৪০ কিলোমিটার। এটি এয়ারক্রাফট কেরিয়ার ধ্বংস করতেও সক্ষম।

এছাড়া কালভারিতে রয়েছে ১৮টি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যা ১৮০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে থাকা যে কোনও শত্রু জাহাজকে ধ্বংস করতে সক্ষম। এই মিসাইল গুলি ফাইনাল টার্গেটে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত শত্রুপক্ষের নজরে আসবে না। নিউক্লিয়ার সাবমেরিনেও একটা বিশেষ শব্দ হয়। কিন্তু আইএনএস কালভারির এয়ার ইনডিপেন্ডেন্ট প্রপালসান সিস্টেম থাকায় ২১ দিন পর্যন্ত এটি নিঃশব্দে বিচরণ করতে পারবে সমুদ্রের তলায়।

জলের উপর ভেসে থাকা অবস্থায় এই সাবমেরিনের রেঞ্জ ১২০০০ কিলোমিটার আর জলের তলায় ১০০০ কিলোমিটার। পুরোপুরিভাবে ডুবে থাকা অবস্থায় এই সাবমেরিনের রেঞ্জ ৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এটি ৩৫০ মিটার পর্যন্ত গভীরে যেতে পারে।