নয়াদিল্লি: কাশ্মীর থেকে স্পেশাল স্টেটাস উঠে যাওয়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। বিমাবন্দরগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করার পর এবার সতর্ক করা হল নৌবাহিনীকে।

৭৫১৪ কিলোমিটারের উপকূল বরাবর গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি হয়েছে সতর্কতা। উপকূলের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হানার আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দাসূত্রে খবর।

ভারতীয় নৌসেনার কাছে খবর রয়েছে যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণ হতে পারে ভারতের বুকে। এমনই এক নাশকতার ছক রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গিদের। মুম্বই হামলার সময়ও করাচি থেকে জলপথে মুম্বই ঢুকেই হামলা করেছিল পাক জঙ্গিরা। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, আবারও সেরকমভাবে ভারতের বুকে চরম হামলার রাস্তায় হাঁটছে তারা।

ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, জইশ ই মহম্মদের জঙ্গিনেতা মাসুদে আজহারের ভাই রউফ আজগর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আনাগোনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে জইশ প্রশিক্ষণের পর পাঞ্জাব সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিদের ভারতে প্রবেশ করানোর ছকে রয়েছে রউফ। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে জলপথে জঙ্গিরা ঢুকবে। কেন্দ্রের হাতে এই তথ্য আসতেই জারি হয়েছে সতর্কতা। পূর্বও পশ্চিম উপকূলে জারি সতর্কতা। নৌসেনা রয়েছে হাই অ্যালার্টে।

সমুদ্র জুড়ে চলছে তল্লাশি অভিযান। সেনার সমস্ত নজরদারির অস্ত্র আরও শানিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্র থেকে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে আগেই৷ যে কোনও সময়ে পুলওয়ামার ধাঁচে হামলা চলতে পারে দেশের সাতটি রাজ্যে৷ জইশ ই মহম্মদ জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর৷ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি৷ শুধু সীমান্ত নয়, দেশের অভ্যন্তরেও আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে বেশ কয়েকটি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা৷

সেই মর্মেই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট সাতটি রাজ্যে৷ অন্যান্য রাজ্যগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ জি নিউজের একটি সূত্র জানাচ্ছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা।

জানা গিয়েছে দিল্লি, রাজস্থান, পঞ্জাব, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে এই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে৷ হামলার মদত দেওয়ার জন্য তথ্য সরবরাহ করছে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই৷ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে কায়দায় পুলওয়ামায় হামলা চালানো হয়েছিল, সেই একই কায়দায় এই সাত রাজ্যে হামলা চালানো হতে পারে বলে গোয়েন্দাদের আশংকা৷