নয়াদিল্লি: তল্লাশির অবসান৷ ২১ দিন পরে নিখোঁজ পাকিস্তান সাবমেরিনের হদিশ পেল ভারতীয় নৌসেনা৷ পিএনএস-সাদ নামের এই সাবমেরিনটিকে পাকিস্তানের পশ্চিম উপকূলে খুঁজে পায় ভারতীয় নৌসেনা৷ নৌসেনা আধিকারিকরা জানাচ্ছেন বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের পরে যথেষ্ট সতর্ক হয়ে গিয়েছে পাক সেনা৷ সীমান্ত ও উপকূল জুড়ে কড়া নজরদারি ও প্রহরার বন্দোবস্ত করেছে ইসলামাবাদ৷

সেই লক্ষ্যেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এই পিএনএস-সাদকে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দেখলে ব্যবহার করা হত সাদকে বলে অনুমান ভারতীয় নৌসেনা কর্তাদের৷ তবে পাকিস্তানের পশ্চিম উপকূলে এই সাবমেরিনকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে৷ ২১ দিন পরে ভারতীয় নৌসেনা এই সাবমেরিনকে খুঁজে পায়৷

আরও পড়ুন : ভোটে হারার পর অখিলেশ একটাও ফোন করেনি : মায়াবতী

এই ২১ দিন ধরে আরব সাগর ও পাকিস্তানের জলসীমা বরাবর তল্লাশি চালিয়েছে ভারত৷ পুলওয়ামা হামলার পর ভারতীয় নৌসেনার পক্ষ থেকেও কড়া সতর্কতা নেওয়া হয়৷ মোতায়েন করা হয় আইএনএস বিক্রমাদিত্য সহ মোট ৬০টি যুদ্ধজাহাজকে৷ এতটাই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে যে মাকরান উপকূল ছেড়ে পাক নৌসেনা এগোতে পারেনি৷ এমনই জানান ভারতীয় নৌসেনার মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ডিকে শর্মা৷

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২১ ধরে পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজের খোঁজ চালানো হয়৷ সরকারি সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের অবস্থান টের পাওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তানের বন্দর শহরে করাচি উপকূলে সেটি রাখা থাকতো। যেটির গতিবিধির উপরে নিয়মিত নজর রাখা হতো। কিন্তু গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে সেটির অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সেনাবাহিনীর কর্তাদের।

আরও পড়ুন : ‘জয় শ্রীরাম, জয় হনুমান’ বলিয়ে সারারাত চলল বেধড়ক মার, মৃত যুবক

নৌবাহিনীর কর্তাদের একাংশের ধারণা হয়, এই অবস্থায় জলপথে হামলা করার পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তান। ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্তা জানান, পাকিস্তানের যে যুদ্ধজাহাজের অবস্থান জানা যাচ্ছে না সেটি বিশেষ শক্তিশালী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ওই যুদ্ধজাহাজকে জলের অনেক নিচে লুকিয়ে রাখা যায় এবং তা রাখা যায় দীর্ঘ সময় ধরে।

ভারতীয় নৌসেনা সূত্রে জানা গিয়েছিল ওই যুদ্ধজাহাজ মাত্র তিন দিনের মধ্যে করাচি থেকে ভারতের গুজরাত উপকূলে চলে আসতে পারে। আর ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে আসতে এর সময় লাগতে পারে মাত্র পাঁচ দিন। ফলে তল্লাশি জোরদার চলছিল ওই সাবমেরিনের জন্য৷ যে যে এলাকায় ওই সাবমেরিন আত্মগোপন করে থাকতে পারে, সেই জায়গাগুলিতে তল্লাশি জোরদার চলছিল৷ এরই সঙ্গে গুজরাত, মহারাষ্ট্র উপকূলে বাড়িয়ে দেওয়া হয় নজরদারি৷