রাওয়ালপিণ্ডি: সামরিক হাসপাতালে বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে এখনও কোনও তথ্যই জানায়নি পাক সেনা৷ অনেকেই বলছেন ওই হাসপাতালের বিস্ফোরণ কাণ্ডে গুরুতর জখম হয়েছেন জৈশ-ই-মহম্মদের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার৷ কারণ ওই হাসপাতালেই কিডনির সংক্রামণের চিকিৎসা করাতে যান মাসুদ৷ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সোমবারের বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবং মাসুদ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছে না৷ তবে অনেকেই বলছেন, ভারতীয় গুপ্তচরদের কাছে নাকি পাক্কা খবর রয়েছে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি নির্ভরযোগ্য টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে যে ওই বিস্ফোরণে যে দশজন জখম হয়েছে, তার মধ্যে একজন হল মৌলানা মাসুদ আজহার৷

প্রসঙ্গত, সোমবার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাওয়ালপিন্ডির সামরিক হাসপাতাল৷ এই বিস্ফোরণে যে বেশ বড়সড় ছিল তা প্রাথমিকভাবে জানায় পাক সংবাদমাধ্যম৷ কিন্তু, পাক সেনা দ্রুত সংবাদমাধ্যমকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণ ‘মিডিয়া ব্লক’করে দেওয়া হয়৷ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ তাদের তাদের আপতকালীন পরিস্থিতিতে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়৷

কিন্তু তবে ঠিক কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল বা কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে – তা রহস্যই থেকে গিয়েছে৷ পাকিস্তানের পাশতুন তাহাফুজ মুভমেন্টের সঙ্গে জড়িত এক মানবাধিকার কর্মী ট্যুইটারে ওই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেন৷ পরে ওই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করেছেন আরও অনেকে৷ কিন্তু কেউ-ই ভিতরের খবর দিতে পারেননি৷

কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদি ঘোষণা করেছিল৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়নি চিনও৷ এরপর থেকেই নাকি অসুস্থ মাসুদ সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তবে বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর সংস্থাগুলির নজর তাঁর উপর রয়েছে৷ পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে জঙ্গি হানায় ৪২ সেনা জাওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন৷ ঘটনার দায় নিয়েছিল পাক জঙ্গি সংগটন জৈশ-ই-মহম্মদ৷

আরও পড়ুন : হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন থেকে ধৃত ২ জেএমবি জঙ্গি

জৈশের মূল চক্রী মাসুদ আজহার তার জন্মস্থান, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর৷ সেখানেই বহাল তবিয়তে বসে ছিলেন মাসুদ৷ কিন্তু বালাকোটে বিমানহানরা পর পাক সেনা তাকে গোপন ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যায়৷ জিহাদি জঙ্গি ট্রেনিং থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের পরিকল্পনা সেখান থেকেই চালাচ্ছিলেন মাসুদ৷ কিন্তু এরমধ্যেই তাকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা হয়৷ অন্তর্জাতিক স্তরে বড় জয় পায় মোদী সরকার৷

তবে, পাক পঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরের জামিয়া সুভান আল্লা মসজিদের কথা কেউ জানে না এমন নয়৷ সারা পৃথিবীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই মসজিদে নজর রেখেছে৷ ওই মসজিদেই জম্মু ও কাশ্মীর খেকে নিয়ে আসা যুবকদের ট্রেনিং দিত মাসুদ৷ সঙ্গে থাকত তার ভাই – আবদুল রউফ আসগর এবং মহম্মদ ইব্রাহিম আথার আলি৷