ইসলামাবাদ: আবারও আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নোয়াতে বাধ্য হল পাকিস্তান৷ ভারতীয় প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার কুলভূষণ যাদবের ক্ষেত্রে  কনসুলার অ্যাকসেস দিতে বাধ্য হল পাকিস্তান৷ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে ভারতের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা হল পাকিস্তানের হাতে বন্দি কুলভূষণ যাদবের৷

রবিবারই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল জানিয়ে দেন আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে সোমবার কনসুলার অ্যাকসেস দেওয়া হবে কুলভূষণকে৷ ভারত সেই প্রস্তাব মেনে নেয়৷ সোমবারই পাকিস্তানে ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার গৌরব আলুওয়ালিয়ার কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করার কথা৷ পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকে বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ পৌঁছন তিনি৷

আরও পড়ুন : ফের সংসদে হামলার চেষ্টা, আতঙ্ক পার্লামেন্ট চত্ত্বরে

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জলের সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা রয়েছে ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারের৷ বেলা বারোটার পর এই বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর৷ এরপর দুঘণ্টা সময় কুলভূষণের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, কোনও অজ্ঞাত জায়গায় কুলভূষণের সঙ্গে সাক্ষাত হতে পারে ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারের৷

এর আগে, পাকিস্তানের ট্যুইটের প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি জানায় কনসুলার অ্যাকসেস সংক্রান্ত পাকিস্তানের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হচ্ছে৷ তবে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক আলোচনার আশা পাকিস্তানের কাছ থেকে করে ভারত৷ সঠিক ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তবেই কনসুলার অ্যাকসেস সাফল্য পাবে বলে জানিয়ে দেয় নয়াদিল্লি৷

উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে কুলভূষণ যাদবের কনসুলার অ্যাকসেস চেয়ে আসছে ভারত৷ কিন্তু তা মানতে চায়নি পাকিস্তান। পরে আন্তর্জাতিক আদালতে মুখ পোড়ে পাকিস্তানের। জানিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানকে অবশ্যই কনস্যুলার অ্যাকসেস দিতে হবে।

এরপর কুলভূষণের কনসুলারের অ্যাকসেসে ছাড় দেয় পাকিস্তান৷ তবে বলা হয় পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী এই অ্যাকসেস দেওয়া হবে৷ তবে সেই শর্তে রাজি ছিল না নয়াদিল্লি৷ ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয় শর্তহীন কনসুলার অ্যাকসেস চায় তারা৷ সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছিল পাকিস্তান।

আরও পড়ুন : ছিলেন কার্গিল যুদ্ধেও, বাদ পড়ল প্রাক্তন এয়ার ফোর্স অফিসারের নাম

গত ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক আদালতে কুলভূষণ মামলার রায় দেওয়া হয়। সেনা আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে আদালত।

পাশাপাশি, ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর আর্টিকলের প্রথম প্যারাগ্রাফ অনুসারে কুলভূষণ যাদবকে কুনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া হয়নি বলেও সেখানে মন্তব্য করা হয়। এর জেরে কুলভূষণকে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আর এইভাবে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেশন লঙ্ঘন করেছে বলেও পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলে আন্তর্জাতিক আদালত।