মুম্বই: লকডাউন না-উঠলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে শিথিল হয়েছে নিয়ম৷ তৃতীয় পর্যায়ের লকডাউন শেষ হচ্ছে ১৭ মে৷ কিন্তু তারপরেও যে লকডাউন উঠছে না, আগেই তার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তবে ১৮ মে থেকে শুরু হতে চলা চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউনে আরও কিছু নিয়ম শিথিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷

চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউনের মধ্যেও সরকারের অনুমতি পেলে আউটডোর প্র্যাকটিস শুরু করতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল৷ বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধূমাল৷ পিটিআই-কে তিনি জানিয়েছেন, শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা জাতীয় লকডাউন চতুর্থ পর্যায়ে বিধিনিষেধ কমিয়ে আনলে ১৮ মে-এর পর আউটডোর প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সারা দেশে চলছে লকডাউন৷ এর ফলে সমস্ত শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলিটরা তাদের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে৷ লকডাউনের মধ্যে নিজেকে ফিট রাখতে বাড়িতে কিছুটা অনুশীলন করছেন৷ কিন্তু আউটডোর প্র্যাকটিস প্রায় দু’ মাস বন্ধ৷

ধূমাল বলেন, ‘হ্যাঁ, বিসিসিআই ১৮ মে পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অনুকূল গাইডলাইন পেলে আমাদের খেলোয়াড়রা কীভাবে আউটডোর প্রশিক্ষণ শুরু করতে পারে তা দেখার জন্য রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে৷’

রোডম্যাপের ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে ধূমাল বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যেহেতু ভ্রমণ করতে পারে না, তাই আমরা তাদের আবাসনের কাছের মাঠে দক্ষতা প্রশিক্ষণ (নেট সেশন) শুরু করতে পারি কিনা তা দেখার জন্য বিকল্পগুলির সন্ধান করছি। বিসিসিআই সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে৷ অর্থাৎ আমাদের পোস্ট-লকডাউন পর্বে খেলোয়াড়দের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।’

আশা করা যায় যে, স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে বাড়ির পাশে কোনও ব্যাটসম্যানের নেট সেশন করলে সেই প্লেয়ার ও তিনজন নেট বোলারকে নিয়ে তা করা যেতে পারে৷ বর্তমানে, প্রতিটি ভারতীয় খেলোয়াড় তাদের ট্রেনার নিক ওয়েবের কাছ থেকে কাস্টমাইজড ফিটনেস ড্রিল চার্ট অনুসরণ করছেন।

শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবলমাত্র মহম্মদ শামি, যিনি উত্তর প্রদেশের তাঁর জন্মস্থান সহসপুর গ্রামে একটি পূর্ণ মাপের ক্রিকেট মাঠের মালিক, কিছুটা দৌড়াতে পেরেছেন। অন্যরা বেশিরভাগই মেট্রো শহরে লক হয়ে থাকায় স্পেস ক্রাচ তাদের জিমে কাটাচ্ছে৷

ধূমাল জানান, খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য একটি কাস্টমাইজড অ্যাপ রয়েছে যা বিসিসিআই তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সরবরাহ করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা অ্যাপটি তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করছে। সমস্ত সিনিয়র খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফরা এই অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে৷

তবে কোষাধ্যক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দেন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না-হলে বিসিসিআই কোনও শিবিরের আয়োজন করবে না। তিনি বলেন, আমাদের খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর না-হওয়া পর্যন্ত আমাদের কোনও শিবির হবে না৷’

ক্রিকেটারদের COVID-19 টেস্ট করানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্ত খেলোয়াড় সামাজিক দূরত্বের নিয়মগুলি অনুশীলন করে প্রথম দিন থেকেই ঘরে বসে আছেন। তারা কোনও শিবিরে নেই।’ মার্চেই ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ মাঝপথে বন্ধে করে দেয় বোর্ড৷ এরপরই ক্রিকেটাররা যে যার বাড়ি ফিরে যায়৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV