লখনউ: লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ালেন টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটার মহম্মদ শামি৷ তিনি নিজে হাতে শ্রমিকদের হাতে খাবার ও জল তুলে দিলেন ভারতীয় দলের এই ডানহাতি পেসার৷

পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন। এবার রাস্তায় নেমে তা করে দেখালেন শামি৷ আর এই কাজ করে বোর্ডের প্রশংসা আদায় করে নিলেন বাংলার এই পেসার৷ বাড়ি উত্তরপ্রদেশে হলেও বাংলার হয়ে প্রথমশ্রেণির ক্রিকেট খেলেন শামি৷ এখান থেকেই জাতীয় দলে সুযোগ পান উত্তরপ্রদেশের এই ডানহাতি পেসর৷

অসহায় শ্রমিকদের খাবার, জল, মাস্ক বিতরণ করে দেশের হৃদয় জিতে নিলেন শামি। পরিযায়ী শ্রমিকরা উত্তরপ্রদেশে তাঁর বাড়ির পাশে হাই রোড ধরে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসার।

বিসিসিআই-এর তরফে এদিন একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়৷ সেই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘দেশ যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন উত্তরপ্রদেশের ২৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে খাবার, মাস্ক দিয়ে শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছাতে সাহায্য করছেন মহম্মদ শামি। সাহসপুরে নিজের বাড়ির পাশে খাবার বিতরণ কেন্দ্রও তৈরি করেছে ও। এই যুদ্ধে আমরা সবাই এক সঙ্গে রয়েছি।’

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় যাঁরা গাড়ির প্রতীক্ষায় রয়েছেন, তাদের পানীয় জল বিতরণ করছেন। বাকিদের হাতে খাবারের প্যাকেট ও কলা তুলে দিচ্ছেন। উত্তর প্রদেশের আমরোহার কাছে জাতীয় সড়কের পাশে খাদ্য ও জল বিতরণ করতে তাঁবু স্থাপন করেছেন শামি৷ তিনি প্রায় ২০০ লোককে খাবার ও কলা বিতরণ করেন৷

এর আগে টিম ইন্ডিয়ায় তাঁর সতীর্থ যুবেন্দ্র চাহালের সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম চ্যাটে শামি জানিয়েছিলেন কীভাবে তিনি এক অজ্ঞান পরিযায়ী শ্রমিককে সাহায্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘রাজস্থান থেকে একজন শ্রমিক আসছিলেন। তাঁর গন্তব্য ছিল বিহার। যা লখনউ থেকে অনেক দূর। ঘরে যাওয়ার অন্য কোনও উপায়ও ছিল না। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখেছিলাম খিদেতে অজ্ঞান হয়ে যায় ও আমার বাড়ির দরজার সামনে। ওকে খাবার দিয়ে সাহায্য করেছিলাম।’

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এই মারণ ভাইরাসে ৮৩৯৮ জনে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে৷ করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে৷ শেষ ২৪ ঘন্টায় আরও ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এই মারণ ভাইরাসে। আক্রান্তের মত সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে৷। এই পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বিধিনিষেধ আরোপ করে লকডাউন অনেকটাই শিথিল করেছে কেন্দ্র সরকার।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প