মুম্বই: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণে শুধু দেশের রাজনৈতিকমহলই নয়, শোকের ছায়া ভারতীয় ক্রিকেটমহলেও৷ ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম একটা অধ্যায় জুড়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি৷ ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের চড়াই-উতরাইয়ে যেমন বিচক্ষণ সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন অটল বিহারী, ঠিক তেমনই দু’দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক জোড়া লাগাতেও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর প্রয়াস ছিল অবিস্মরণীয়৷

আরও পড়ুন: খেল হি নেহি, দিল ভি জিতকে আনা…

২০০১ সালে সংসদে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে বিছিন্ন ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের সেতুবন্ধনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন বাজপেয়ীই৷ যার ফলশ্রুতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০০৪ সালে ভারতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে পাকিস্তান উড়ে যাওয়া৷

পাঁচটি ওয়ান ডে ও তিনটি টেস্ট খেলতে টিম ইন্ডিয়ার পাকিস্তন উড়ে যাওয়ার ঠিক আগে তৎকালীন প্রধামনত্রী বাজপেয়ী দেখা করেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে৷ শুভেচ্ছা স্মারক স্বরূপ অধিনায়র সৌরভের হাতে তুলে দেন নিজের স্বাক্ষর করা একটি ব্যাট, যাতে লেখা ছিল ‘খেল হি নহি, দিল ভি জিতিয়ে -শুভকামনায়ে’৷ অর্থাৎ ‘শুধু খেলাই নয়, মনও জিতে এসো -শুভকামণা রইল’৷

প্রধানমন্ত্রীকে নিরাশ করেনি ভারতীয় দল৷ পাকিস্তান থেকে ৩-২ ব্যবধানে ওয়ান ডে সিরিজ ও ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে ফিরেছিলেন সৌরভরা৷ গোটা সফরে পাকিস্তানি সমর্থকদের আকুণ্ঠ ভালোবাসাও পেয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা৷

তার আগেই অবশ্য অটল বিহারী বাজপেয়ী ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন৷ ১৯৯৯ সালে ফিরোজ শাহ কোটলায় ভারত-পাক সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন বাজপেয়ী৷ ম্যাচের শেষে দু’দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ছবিও তোলেন তিনি৷

এহেন বাজপেয়ীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড৷ শোকজ্ঞাপণ করেছেন ঐতিহাসিক পাকিস্তান সফরের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও৷ এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিরাট কোহলি, সচিন তেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, ভিভিএস লক্ষ্ণণ, রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়না, অনিল কুম্বলে প্রমুখ৷

টুইটারে শোকবার্তায় বিসিসিআই জানিয়েছে, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাদপেয়ীর মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট দল ও বিসিসিআই শোকাহত৷ অটলজী নিজের জীবনটা দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন৷’

বাজপেয়ীর হাত থেকে পাক সফরের আগে শুভেচ্ছা স্মারক হাতে নেওয়া সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘উজ্জ্বল রত্ন হারাল ভারত৷ একজন মহান আত্মা৷ ওনার আত্মার শান্তি কামণা করি৷’

বিরাট কোহলি একই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেছেন পর পর দু’দিনে দু’জন মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে৷ অজিত ওয়াদেকর ও অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ভারত অধিনায়ক লেখেন, ‘আমাদের কাছে একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন, আমরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার অজিত ওয়াদেকরতে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছি৷ ওনাদের আত্মার শান্তি কামণা করি৷ ভারত এবং কোটি কোটি ভারতবাসী আপনাদের অবদান চিরকাল স্মরণ করবে৷’

অনিল কুম্বলে জানিয়েছেন, ‘দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখের দিন৷ আমরা আমাদের মহানতম নেতাকে হারালাম৷ দেশের অগ্রগতিতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর অবদান অনস্বীকার্য৷ ওনার আত্মার শান্তি কামণা করি৷’

বীরেন্দ্র সেহওয়াগ টুইটারে লেখেন, ‘আসমান কো ছু গ্যয়া, জো আসমান সে বিশাল থা, ধরতি মে সিমট গ্যয়া, জো মিট্টি জয়সি নরম থা, কউন হ্যায় জো অটল রহ পায়া জিন্দগী ভর, অটল বনকে ওহ জিন্দগী কো পা গ্যয়া৷ ওম শান্তি৷’

সচিন তেন্ডুলকর টুইট করেছেন, ‘ভারতের অপূরণীয় ক্ষতি হল আজ৷ দেশের প্রতি শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী জী’র অবদান অগণিত৷’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।