ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: রবিবারই একের পর এক বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা৷ গোটা বিশ্বের চোখের সামনে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩০০ জন মানুষের৷ বিস্ফোরণের অভিঘাতে রেহাই পায়নি প্রার্থনাস্থল থেকে হোটেলের আশ্রয়ও৷ কলম্বোয় প্রভু যীশুর গায়ে আজ রক্তের ছিটে৷

সেই নাশকতার রেশ ধরেই শ্রীলঙ্কার প্রতিবেশী ভারত সতর্কতা জারি করল৷ উপকূলীয় রক্ষীবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি৷ এক বিবৃতিতে জানান হয়েছে কলম্বোয় হামলা চালানো জঙ্গিরা সমুদ্রপথে দেশ ছেড়ে পালাতে পারে৷ সেক্ষেত্রে তাদের প্রধান আশ্রয় স্থল হয়ে উঠতে পারে ভারতের ভূখণ্ড৷ কোনওভাবেই যাতে জলপথে জঙ্গি অনুপ্রবেশ না ঘটে, তার জন্যই সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : রাহুলের গলায় বোমা বেঁধে দেশের বাইরে ছুঁড়ে ফেলা উচিত: বিস্ফোরক বিজেপি নেত্রী

ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগর জুড়ে ভারতীয় জলসীমায় টহলদারি বাড়িয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী বা কোস্টগার্ড৷ কড়া নিরাপত্তায় চলছে নজরদারি৷ বিশেষত শ্রীলঙ্কা সীমান্ত বরাবর এই নজরদারির ঘেরাটোপ জারি করা হয়েছে৷

রবিবারের ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল শ্রীলঙ্কা৷ সোমবার রাজধানী কলম্বোর একটি চার্চের সামনে ঘটে বিস্ফোরণটি৷ এখনও অবধি কোনও হতাহতের খবর নেই৷

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক আছে৷ সোমবার এমনই দাবি করেন সেদেশের মন্ত্রী রাজিতা সেনারত্নে৷ জানান, রবিবার আটটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে সাত জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক৷

আরও পড়ুন : মোদী নয়, অমিত শাহকে প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ বিজেপি নেতার

সোমবারও আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে কলম্বোর কোটাহেনাতে৷ সেখানে একটি গির্জার বাইরে এসটিএফ বিস্ফোরক খুঁজে পায়৷ সেটি নিস্ক্রিয় করার সময় হঠাৎই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা৷ মুহূর্তের মধ্যেই ফিরে আসে রবিবারের আতঙ্কের ছবি৷

এরই মাঝে শ্রীলঙ্কা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে আরও ৮৭টি বোমা খুঁজে পেয়েছে৷ রাজধানী কলম্বোর বাস স্টেশনে সেগুলি লুকিয়ে রাখা ছিল৷ সোমবারের বিস্ফোরণটি সেখানেই হয়৷ এদিকে, শ্রীলঙ্কা জুড়ে জারি ধরপাকড়৷ রবিবারের ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২৯০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷ আহত ৫০০র বেশি৷ কোনও সংগঠন এখনও অবধি ঘটনার দায় স্বীকার করেনি৷

আরও পড়ুন : তৃতীয় পর্যায়ের ভোটে ৫৭০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

তবে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, এই হামলার পিছনে হাত রয়েছে কট্টর ইসলামিক সংগঠন এনটিজের৷ আন্তর্জাতিক কোনও সংগঠনের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি৷ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈথিপালা সিরিসেনা তিন বিচারপতিকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন৷ বিস্ফোরণের তদন্ত করে দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন৷

২১ এপ্রিল, সকাল ৮.৪৫ নাগাদ ৩টি গির্জা এবং ৩টি বিলাসবহুল হোটেলে পর পর বিস্ফোরণে এভাবেই শুরু হল শ্রীলঙ্কার রবিবাসরীয় দিনটি৷ ছটি বিস্ফোরণেই থেমে থাকেনি। এরপর আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ইস্টার সানডেতে গীর্জায় শান্তমনে প্রার্থনায় রত ছিলেন অনেকে৷ কিন্তু সেই শান্ত মনেই হঠাৎই থাবা বসল আতঙ্কের, রক্তাক্ত হয়ে উঠল ইস্টার সানডে৷