মুম্বই: আন্তর্জাতিক গোলের নিরিখে কিংবদন্তি পেলেকে টপকে যেতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ৬টি গোল। পাশাপাশি সক্রিয় আন্তর্জাতিক ফুটবলার হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার তিনি। তাঁর ক্যারিশমায় পিছনে পড়ে গিয়েছেন আর্জেন্তাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সামনে রয়েছেন কেবল পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ভারতীয় ফুটবলের কাছে গর্ব করার মতো যে সামান্য কিছু বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে অবশ্যই সুনীল ছেত্রী অন্যতম।

সোমবার ৩৬-এ পা দিলেন ১১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭২ গোলের মালিক। জন্মদিনে সকাল থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন ভারত অধিনায়ক। ২০০২ মোহনবাগানের হয়ে সিনিয়র ফুটবল কেরিয়ার শুরু। এরপর ২০০৫ জেসিটি’তে যোগদান এই গোলমেশিনের। ওই একই বছরে পাকিস্তানের মাটিতে সুখবিন্দর সিং’য়ের প্রশিক্ষণে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক। বাইচুং ভুটিয়ার পরিবর্ত হিসেবে কেরিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই গোল করেছিলেন হায়দ্রাবাদ জাত এই ফুটবলার। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৮ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ (৪ গোল), ২০১১ সাফ গেমসে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার (৭ গোল), ২০১২ নেহরু কাপে যুগ্ম সর্বোচ্চ গোলস্কোরার (৪ গোল), ২০১৯ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে ৮ গোল। দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হিসেবে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন সুনীল।

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বে ওমানের বিরুদ্ধে শেষ আন্তর্জাতিক গোলটি এসেছে ছেত্রীর। যদিও ম্যাচটা ১-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন আরও ফিকে হয়েছে দেশের। তবু ছেত্রী অনন্য এবং অসাধারণ। বর্ণময় কেরিয়ারে ছেত্রীর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে অন্যতম ২০১৮ ছেত্রীর একটি ভিডিওবার্তা। দেশের মাটিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এক ভিডিওবার্তায় ফ্যানেদের মাঠ ভরানোর বার্তা দিয়েছিলেন ‘দিল্লি বয়’। ছেত্রী বলেছিলেন, ‘সমালোচনা করলেও মাঠে এসে করুন’। অধিনায়কের অনুরোধ ফেলতে পারেননি অনুরাগীরা। ফুল হাউস স্টেডিয়ামের সামনে সেদিন ছেত্রীর ভারত জিতেছিল ৩-০ গোলে।

দেশের বাইরে কানসাস সিটি, স্পোর্টিং লিসবন, কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স, সেল্টিক, লিডস ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে বিভিন্ন সময় স্ট্রাইকিং অ্যাবিলিটিকে আরও ক্ষুরধার করেছেন ছেত্রী। প্রথম ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে মেজর লিগ সকারে (কানসাস সিটি) খেলেছিলেন বর্তমান বেঙ্গালুরু এফসি তারকা। মোহনবাগান, জেসিটির পাশপাশি ইস্টবেঙ্গল, ডেম্পো, চিরাগ, চার্চিল হয়ে ২০১৩ বেঙ্গালুরু এফসি। সেই থেকে এখনও অবধি বেঙ্গালুরুর দলটির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছেত্রী। ব্লুজ জার্সিতে জোড়া আই লিগ, ২০১৬ এএফসি কাপ ফাইনাল থেকে ২০১৮-১৯ অভিষেক আইএসএল মরশুমেই বাজিমাত। সবক্ষেত্রেই ছেত্রী হয়ে রয়েছেন অন্যতম কান্ডারি।

৩৬ তম জন্মদিনে দেশের কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন জানাচ্ছেন ফ্যানেরা। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ছেত্রীর জন্মদিনে এক শুভেচ্ছার্তায় লিখেছে, ‘শুভ জন্মদিন ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিককে জন্মদিনের অনেক-অনেক শুভেচ্ছা।’ অভিনন্দন উপচে পড়ছে অনুরাগীদেরও। যদিও আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ১৫ পার করেও থামতে নারাজ ছেত্রী। কয়েকদিন আগেই জানিয়েছেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে দেশের হয়ে ১৫ বছর খেলার সুযোগ পেয়েছি। এটা একটা স্বপ্নের মতো। আরও ৩-৪ বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারলে কেরিয়ারের বয়স ২০ বছর ছুঁই-ছুঁই হবে। দেশের হয়ে ২০ বছর খেলার কথা কেই বা ভাবতে পারে। তাই আমি সেই স্বপ্নেই বাঁচছি।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা