লাদাখ : একদিকে শীতকাল আসছে, অন্যদিকে চোখ রাঙিয়ে চলেছে চিনা সেনা। সব মিলিয়ে লাদাখের পরিস্থিতি মোটের ওপর ভালো নয়। লাদাখ সীমান্ত শীতকাল জুড়ে এক চরম কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতীয় সেনার জন্য। বিশ্বের সর্বোচ্চ সমরক্ষেত্র ও সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে ভারতীয় সেনা। সেই লাদাখে শীত মানে এক অবর্ণনীয় কষ্ট। তবে তৈরি ভারত।

সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শীতের সময় লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা উন্মুক্ত থাকলেও এ বারে আর তা রাখা হবে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আসন্ন শীতের কারণে ভারতীয় সেনা যদি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে পিছিয়ে যায়, তা হলে চিনা সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কৌশলগত অবস্থানগুলি দখল করে নেবে নিশ্চিত। বিশেষ করে সীমান্তে গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যে ভাবে চিনা সেনা একশো থেকে দু’শো রাউন্ড গুলি চালিয়েছে, তার পরে আর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারত।

যদিও শীতের মধ্যে পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এমনও আশা করছে না মোদী সরকার। তবে লে থেকে হেলিকপ্টারে রেশন, মিনারেল ওয়াটার, ফলের রসের প্যাকেট, তেলের সঙ্গেই প্রবল শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাঁবু, গরম কাপড়ের সেনা পোশাক, বিশেষ জুতো, বরফে ব্যবহারের সানগ্লাস পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পাঠানো হচ্ছে বাড়তি সেনাও।

উল্লেখ্য, লাদাখ সীমান্ত রক্ষায় মোতায়েন রয়েছে ৩০ হাজার ভারতীয় সেনা। এবার তাঁদের জন্য রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। মোতায়েন সেনাদের শীতের জন্য বিশেষ পোশাকের মতো প্রাথমিক জিনিস সরবরাহ করতে সেনাবাহিনী আনুমানিক ৩৫০-৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এই মুহূর্তে চিনের সঙ্গে শান্তি পুনরুদ্ধারের কোনও আশা নেই, সে কারণেই এই প্রস্তুতি নিয়েছে সেনা।

পূর্ব লাদাখে, প্রচণ্ড শীতের সময় তাপমাত্রা শূন্য থেকে কমে মাইনাস ৫০ ডিগ্রিতে নেমে যায়। লাদাখের বেশিরভাগ কঠিন পয়েন্ট প্যানগং লেক এবং গ্যালভান ভ্যালি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে চিনা সেনাকে টেক্কা দিতে মোতায়েন করা হয়েছে টি-৯০ ও টি-৭২ ট্যাংক। এই ট্যাংকগুলি মাইনাস ৩৫ ডিগ্রিতেও সমান দক্ষতায় কাজ করে। এরই সঙ্গে ঝোড়ো বরফশীতল হাওয়া ও তুষারঝড়েও কাজ করতে পারদর্শী।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।