নয়াদিল্লি ও আইজল: পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরই পাল্টা জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় ছিল দেশ। ঘটনার ১২ দিন বাদেই বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইকে নেওয়া হয় সেই বদলা। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের উত্তেজনা যখন খবরের শিরোনামে, তখন অন্য এক সীমান্তে নিঃশব্দে এক বড়সড় অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় সেনা।

দেশের পূর্ব দিকে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে চালানো হয়েছে সেই জঙ্গিদমন অভিযান। জানা গিয়েছে, পুলওয়ামায় হামলার ঠিক পরই ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মর্চ পর্যন্ত সপ্তাহ দুয়েক ধরে চলে সেই মেগা স্ট্রাইক।

জানা গিয়েছে উত্তর-পূর্বে ভারত ও মায়ানমারের একটি বড়সড় প্রজেক্ট চলছে। উত্তর-পূর্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রজেক্ট। কিন্তু, সেই প্রজেক্ট যাতে সফল না হয়, তার জন্য হুমকি দিচ্ছিল জঙ্গিরা। বাধা দেওয়া হচ্ছিল প্রকল্পের কাজে। তাই এই অভিযান চালাতে হয় সেনাবাহিনীকে।

কালাদান প্রজেক্ট নামে বন্দরের ওই প্রকল্পের কাজে বাধা দিচ্ছিল আরাকান আর্মি। তাই মায়ানমার সেনার সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

কালাদান নামে ওই প্রজেক্টে আসলে ভারত ও মায়ানমারের বন্দরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন হবে। এর ফলে কলকাতা থেকে মিজোরামের দূরত্ব কমে যাবে। অন্তত চার ঘণ্টা কম সময় লাগবে এই প্রজেক্ট হলে। উল্লেখ্য, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ওই সিটুয়ে বন্দরের কাছে একটি প্রজেক্ট করছে চিনও। ভারত যখন গোপন সূত্রে খবর পায় যে, ওই প্রজেক্টে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তখনই জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

মিজোরামের সীমান্তে নতুন তৈরি হওয়া জঙ্গিঘাঁটিগুলি প্রথম পর্যায়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের ফেজে টার্গেট করা হয় এনএসসিএন(কে)-র জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে ওই সব ক্যাম্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়। দু’সপ্তাহ ধরে চলে সেই অভিযান।

ওই অভিযানে ছিল ভারতীয় সেনার স্পেসাল ফোর্স, অসম রাইফেলস ও ইনফ্যান্টরি ইউনিট। হেলিকপ্টার, ড্রোন সহ বিভিন্ন জিনিসে নজরদারি চালানো হয় এই অভিযানে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই আরাকান আর্মি আইইডি ব্লাস্টে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। তাই তাদের হুমকিতে ওই প্রজেক্টে কর্মীদের কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। ভারত-চিন ও মায়ানমারের সংযোগকারী স্পর্শকারত এলাকায় রয়েছে এই আরাকান আর্মির হেডকোয়ার্টার রয়েছে।

জানা গিয়েছে, অন্তত এক ডন জঙ্গি ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই অভিযানে।