প্রতীকি ছবি

নয়াদিল্লি:  গত মঙ্গলবার এমআই-১৭ চপার অরুণাচল প্রদেশের লিপো এলাকায় নিখোঁজ বায়ুসেনা বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়৷ তারপরেই বিমানের যাত্রীদের খোঁজ পাওয়ার আশা উজ্জ্বল হয়৷ কিন্তু সেখানেও হতাশা৷ মঙ্গল, বুধ তন্নতন্ন করে খুঁজেও যাত্রীদের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তারপর বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে। কিন্তু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হলেও বিমানে থাকা যাত্রীদের খোঁজে কোনও রকমের জায়গা বাদ রাখেনি ভারতীয় বায়ুসেনা।

বুধবার বিমানের ধ্বংসাবশেষের কাছে সেনা ও অসামরিক পর্বতারোহীদের একটি বিশেষ দলকে হেলিকপ্টার থেকে নামানো হয়। রীতিমত এয়ারড্রপ সেখানে বায়ুসেনার আধিকারিকদের নামানো হয়। গত মঙ্গলবার অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং জেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকা পেয়াম সার্কেলে বায়ুসেনার নিখোঁজ বিমান এএন ৩২-র ধ্বংসাবশেষ প্রথম নজরে আসে। একেবারে ঘন অরণ্যে ঢাকা অরুণাচল প্রদেশের এই পার্বত্য এলাকা। আর ঘন সেই এলাকায় বায়ুসেনার এমআই-১৭ ভি৫ হেলিকপ্টার তল্লাশি চালাচ্ছিল।

তল্লাশি চালানোর সময়েই উদ্ধারকারী দলের নজর আসে গভীর অরণ্যের একটা বিশাল অংশে পুরে গিয়েছে সম্পূর্ণ গাছপালা। এরপরেই বহেলিকপ্টারটিকে আরও নীচে নামানো হয়। আর তা নামাতেই উদ্ধারকারী দলের নজরে আসে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। পাওয়া সেই ছবি দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বিমানটি ভেঙে পড়ার পরই আগুন ধরে গিয়েছিল। তার ফলেই আশপাশের গাছগুলো ঝলসে যায়।

ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, এলাকাটি পুরো একেবারে গভীর অরণ্য। পাহাড়ের কোলে ওই দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো মোটেই সহজ ছিল না। হেলিকপ্টার নামানোর জন্য যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন, তাও নেই সেখানে। সেই কারণে বুধবার সকালে সেনা ও অসামরিক পর্বতারোহীদের একটি বিশেষ দলকে হেলিকপ্টার থেকে নামানো হয়েছে। ওই দলে ৮-১০ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন বলে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধারকাজে সুবিধার জন্য পশ্চিম সিয়াংয়ের কাইয়াংয়ে একটি বেস ক্যাম্প তৈরি করা হয়। সেখানে চিকিত্সকদের একটি দলকেও পাঠানো হয়। জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সার জন্য জোরহাটের সেনা হাসপাতালকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। কিন্তু শেষমেশ কাউকে খুঁজে পায়নি ভারতীয় বায়ুসেনার এই উদ্ধারকারী দল।

গত ৩ জুন মাঝ আকাশেই নিখোঁজ হয়ে যায় বায়ুসেনার বিমানটি। অসমের জোরহাট থেকে অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এএন-৩২। কিন্তু বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। গত আটদিন ধরে চলছিল খোঁজ। দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হলেও, সেই চপার কোথায় গিয়ে পড়েছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছিল না। এমনকি ইসরোর স্যাটেলাইট ব্যবহার করেও চলছিল খোঁজ।

এএন-৩২ বিমানের এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত তিন বছর আগে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার পথে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল আরও একটি এএন-৩২ বিমান। যার খোঁজও আজও মেলেনি। ঠিক সেভাবে এবার চিন সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বায়ুসেনার এই অত্যাধুনিক বিমানটি।