নয়াদিল্লি-কলকাতা:  শুধু মানবশরীরের মধ্যে এবার আর আটকে থাকল না ভয়ঙ্কর এই করোনা ভাইরাস। নিউইয়র্কে প্রথম বাঘের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাস। আর সেই তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিশ্ব। কীভাবে প্রাণীর শরীরেও সংক্রমণ? বুঝে উঠতে পারছে না তাবড় তাবড় গবেষকরা।

এবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্যগুলিকে অ্যাডভাইজারি পাঠিয়েছে। যেখানে সাফ বলা হয়েছে যে দেশের সমস্ত চিড়িয়াখানাগুলিতে এবং জঙ্গলে বাঘ সহ অন্যান্য পশুপাখি যাতে সুরক্ষিত থাকে তার সমস্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই অ্যাডভাইজারি আসার অনেক আগে থেকেই রাজ্য সরকার সমস্ত রকম বাঘ এবং অন্যান্য পশু পাখি যাতে সুরক্ষিত থাকে তার সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সমস্ত পশুপাখিদের অ্যান্টিভাইরাস দেওয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। শুধু তাই নয়, বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৭ ই মার্চ থেকে আমরা রাজ্যের সমস্ত চিড়িয়াখানা এবং ভ্রমণের যে সমস্ত জায়গাগুলি রয়েছে তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চিড়িয়াখানার আধিকারিক এর সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠকও করা হয় সোমবার। তাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এখন থেকে চিড়িয়াখানার পশুপাখিদেরকে যারা খাবার বিতরণ করবেন তাদের সকলকে পিপিই পরহিত অবস্থাতেই পরিচর্যা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বিড়ালের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। তবে এবার প্রথম বাঘের শরীরে ধরা পড়ল সেই ভাইরাস। শুধু একটি বাঘ নয়।নিউ ইয়র্কের ওই চিড়িয়াখানায় একাধিক বাঘের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার এগ্রিকালচার বিভাগের ভেটেনারি সার্ভিস ল্যাবরেটরি। আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই চিড়িয়াখানা। নিউ ইয়র্কের ব্রংকস চিড়িয়াখানায় একাধিক বাঘ ও সিংহকে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রত্যেকেরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরপর ওই বাঘটিকে পরীক্ষা করা হয়। চার বছর বয়সী মালয়েশিয়ান বাঘটির নাম নাদিয়া।

শুধু এই বাঘটিই নয়, বাঘটির বোন সহ আরও দুটি বাঘ ও তিনটি আফ্রিকার সিংহের শুকনো কাশি হতে দেখা যায়। যেহেতু পশুদের অজ্ঞান করে পরীক্ষা করতে হয়, তাই সব পশুকে পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পশু চিকিৎসকরা। চিড়িয়াখানার এক কর্মীর শরীরব থেকে ওই ভাইরাস পশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।