রাচি: অভিনব টস। বরং বলা ভালো টসের লাইন-আপটা ছিল অভিনব। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিনব প্রচেষ্টাও আখেরে ফলপ্রসূ হয়নি। প্রক্সি অধিনায়কেও টস ভাগ্য বদলায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। সিরিজে আরও একবার বিরাট কোহলির কাছে টস হারতে হয় প্রটিয়াদের। বলা বাহুল্য, রাঁচির শুকনো পিচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিতে দু’বার ভাবেননি বিরাট। ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফ্যাফ ডু’প্লেসি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি অন্য কাউকে টস করতে পাঠাতে পারেন।

উপমহাদেশে টানা ৯টি ম্যাচে টস হেরেছেন তিনি। তাই লোক বদলে ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন প্রটিয়া দলনায়ক। সেই মতো এদিন তেম্বা বাভুমাকে সঙ্গে নিয়ে টস করতে নামেন তিনি। যদিও বাভুমাও টস জেতাতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। রাঁচি টেস্টের প্রথম একাদশে রদবদল করে দু’দলই। এমন খটখটে পিচে বাড়তি পেসারের প্রয়োজন নেই বুঝেই ভারত এই ম্যাচে বিশ্রাম দেয় অভিজ্ঞ ইশান্ত শর্মাকে। তাঁর পরিবর্তে টেস্ট ক্যাপ তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় বাঁ-হাতি স্পিনার শাহবাজ নদিমের হাতে। ম্যাচের একদিন আগেই আহত কুলদীপের ব্যাকআপ হিসেবে ভারতীয় স্কোয়াডে ঢুকেছিলেন নদিম।

প্রথম সুযোগেই এভাবে টেস্ট দলের দরজা খুলে যাবে, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি। কোহলি নিজেও বলেন যে, ‘দু’দিন আগে নদিম ছিলেন কলকাতায়। এখন ও টেস্ট খেলতে নামছে। ও স্থানীয় ছেলে। নদিমকে নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।’ অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা রাঁচি টেস্টের প্রথম একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন করে। আহত এডেন মার্করাম আগেই ছিটকে গিয়েছেন ম্যাচ থেকে। তাঁর পরিবর্তে ওপেন করতে নামবেন কুইন্টন ডি’কক। তিনি এতদিন ব্যাট করছিলেন মিডল অর্ডারে। বাদ পড়েছেন মুথুস্বামী। দলে নেই কেশব মহারাজ। দলে জায়গা হয়নি থিউনিস ডি’ব্রুইন ও ভার্নন ফিলেন্ডারেরও। রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট অভিষেক হচ্ছে হেনরিচ ক্লাসেন ও জর্জ লিন্ডের। দলে ফিরেছেন ডেন পিয়েডট ও লুঙ্গি এনগিদি।

সুযোগ পেয়েছেন জুবাইর হামজা। অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকা এই ম্যাচে ৫ জন বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাচ্ছে। পিচে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পিচ সম্পর্কে সুনীল গাভাসকরের মত, সময়ের আগেই দিওয়ালি আসতে চলেছে রাঁচিতে। ম্যাচ চার দিনের বেশি গড়াবে বলে মনে করেন না সানি। অর্থাৎ, প্রথমে ব্যাট করে প্রতিপক্ষের ঘাড়ে বড় রানের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারলেই বাকি কাজটা সম্পন্ন করতে পারেন স্পিনাররা।

ভারতের প্রথম একাদশ: রোহিত শর্মা, ময়াঙ্ক আগরওয়াল, চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি (ক্যাপ্টেন), অজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটকিপার), রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, শাহবাজ নদিম, মহম্মদ শমি ও উমেশ যাদব।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম একাদশ: কুইন্টন ডি’কক, ডিন এলগার, জুবাইর হামজা, ফ্যাফ ডু’প্লেসি (ক্যাপ্টেন), তেম্বা বাভুমা, হেনরিচ ক্লাসেন (উইকেটকিপার), জর্জ লিন্ডে, ডেন পিয়েডট, কাগিসো রাবাদা, এনরিচ নর্ৎজে, ও লুঙ্গি এনগিদি।