২০ বছর পর ফের এক সাইক্লোনের ভয়াল রূপ দেখল ভারত। দেশের উপকূলে আছড়ে পড়ল সাইক্লোন ‘ফণী।’ ৩ মার্চ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে এগিয়ে এসেছিল সেই ঘূর্ণিঝড়।

২০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝড় আছড়ে পড়ে ওড়িশায়। মৃত্যু হয় কয়েকজনের। আহত হন শতাধিক মানুষ।

ছারখার হয়ে যায় জগন্নাথ ধাম অর্থাৎ পুরী। একের পর এক হোটেলের জানালা-দরজা ভাঙতে শুরু করে।
সেইসঙ্গে একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে যায় বিদ্যুৎ পরিষেবা। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ভুবনেশ্বর, কটক ও পুরী সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে ওডিশার কিছু কিছু জেলা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। গঞ্জাম, পুরীর ৩ লক্ষ এবং ১.৩ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।

ফণীর মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ১২ লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। গত ২০ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় হিসেবে নাম কিনেছে ফণী। গতকাল ভুবনেশ্বরে ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭৫ কিলোমিটার।

ঝড়ের প্রভাব পড়ে কলকাতাতেও। ঝড় বৃষ্টি হয় ব্যাপক পরিমাণে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হয় দুই ২৪ পরগনাতেও। বিশেষত উপকূলীয় এলাকার অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। সমুদ্রের জল ফুঁসতে থাকে। সঙ্গে ঝড়ের গর্জন।

এই ঘূর্ণিঝড়ের নামটি দিয়েছিল বাংলাদেশ৷ সাপের মতো ফণা তুলতে পারে তাই ফণী (Fani)৷ ঝড়ের নামকরণের দায়িত্বে থাকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আঞ্চলিক কমিটি৷ এতে রয়েছে ৮টি দেশ৷ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মলদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ওমা, মায়ানমার প্রমুখ৷ আগে নম্বরের নিরিখে চিহ্নিত করা হত, কিন্তু পরে তা আরও সহজ করার জন্য নামকরণের পালা শুরু হয়৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।