মাউন্ট মাউনগানুই: ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট ইতিহাস! বিশ্বকাপের ঠিক আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (অস্ট্রেলিয়া) ও রানার্সদের (নিউজিল্যান্ড) বিরুদ্ধে টানা সিরিজ জিতে অনন্য নজির গড়ল কোহলি অ্যান্ড কোং৷ একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ড ছুঁলেন বিরাট কোহলি৷

বে ওভালে সিরিজে তৃতীয় ম্যাচেও টিম ইন্ডিয়ার আধিপত্য! ২৪৪ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে গতবারের বিশ্বকাপ রানার্সদের বিরুদ্ধে হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে নিলে ভারত৷ সেই সঙ্গে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে ৩-০ এগিয়ে গিয়ে সিরিজ কব্জা করে নিল বিরাটবাহিনী৷

১০ বছর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ান ডে সিরিজ জিতল ভারত৷ ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার৷ ২০০৮-০৯ নিউজিল্যান্ড সফরে ধোনির নেতত্বে প্রথমবার কিউয়িদের দেশে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ জিতেছিল ‘মেন ইন ব্লু’৷ আর ২০১৯ নিউজিল্যান্ডে ওয়ান ডে সিরিজ জিতে ধোনিকে ছুঁয়ে ফেলবেন ক্যাপ্টেন কোহলি৷

শেষবার অর্থাৎ নিউজিল্যান্ড সফরে বিশ্রিভাবে হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া৷ ধোনির নেতৃত্বে পাঁচ ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে ০-৪ হেরেছিল ভারত৷ কিন্তু এবার বিরাটদের সামনে কিউয়িদের হোয়াইটওয়াশের হাতছানি৷ যদিও সিরিজের শেষ দু’টি ম্যাচে খেলবেন না কোহলি৷ কারণ বিশ্রামের জন্য দেশে ফিরছেন ভারত অধিনায়ক৷ শেষ দু’টি ওয়ান ডে এবং তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন বিরাটের ডেপুটি রোহিত শর্মা৷

রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩৯ রানে শিখর ধাওয়ানের উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে রোহিত-বিরাটের সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে ম্যাচের রাশ থাকে ভারতের হাতেই৷ জুটিতে ১১৩ রান যোগ করেন রোহিত-বিরাট৷ হাফ-সেঞ্চুরির পর রোহিত ও বিরাট ড্রেসিংরুমে ফিরলেও অম্বাতি রায়ডু ও দীনেশ কার্তিকের ব্যাটে সহজ জয় পায় টিম ইন্ডিয়া৷ তৃতীয় উইকেটে রায়ডু ও কার্তিকের অবিভক্ত ৭৭ রানের পার্টনারশিপে ৬ ওভার বাকি থাকতেই সাত উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় কোহলি অ্যান্ড কোং৷

আগের ম্যাচে ৮৭ রানের ইনিংস খেলা রোহিত এদিনও দলের হয়ে সর্বাধিক ৬২ রান করেন৷ ক্যাপ্টেন কোহলি দ্বিতীয় ম্যাচে অল্পের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করলেও এদিন ওয়ান ডে কেরিয়ারে তাঁর ৪৯তম অর্ধ-শতরান করে ফেলেন৷ তবে ব্যক্তিগত ৬০ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন বিরাট৷ রোহিত-বিরাট অল্প সময়ের ব্যবধানে আউট হলেও রায়ডুর অপরাজিত ৪০ এবং কার্দিতকের অপরাজিত ৩৮ রানের ফলে জিততে বেগ পেতে হয়নি ভারতকে৷

সিরিজের তিন ম্যাচে রান করেন ভারতের টপ-অর্ডার৷ প্রথম ম্যাচে অল্প রান তাড়া করায় মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল বিরাটবিগ্রেড৷ দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ব্যাটিং করে ৩২৪ রান তুলেছিল৷ কিন্ত এদিন প্রথম ব্যাটিং করে ভারতীয় বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ২৪৩ রানে অল-আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড৷ চতুর্থ উইকেটে টেলর-লাথাম ১১৯ রানের পার্টনারশিপ গড়লেও আড়াইশোর গণ্ডি টপকাতে ব্যর্থ হয় কিউয়িবাহিনী৷ ১০৬ বলে ৯৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন রস টেলর৷ ৫১ রান করেন লাথাম৷

দ্বিতীয় ম্যাচের মত এদিনও বে ওভালে কিউয়ি ইনিংসের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের সেরা মহম্মদ শামি৷ ৯ ওভারে ৪১ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন বাংলার এই ডানহাতি পেসার৷ দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার, হার্দিক পান্ডিয়া ও যুবেন্দ্র চাহাল৷ নির্বাসন কাটিয়ে এদিন ফের টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে মাঠে ফেরেন পান্ডিয়া৷ বিজয়শঙ্করের পরিবর্তে এদিন পান্ডিয়াকে খেলায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট৷ শূন্যে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে এদিন একটি দুরন্ত ক্যাচ নেন পান্ডিয়া৷ চোটের জন্য এদিন খেলেননি ধোনি৷ তাঁর পরিবর্তে এদিন দলে ঢোকেন কার্তিক৷ সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ বৃহস্পতিবার হ্যামিলটনে৷