নয়াদিল্লি: ইস্টারের সকালে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০০ জন। এখনও পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও বিশেষ সংগঠন। তবে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠের দিকেই আঙুল তুলেছে সে দেশের সরকার।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’য় প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য হামলার জন্য ওয়ার্নি দিয়ে আসছিল। নাম উঠে এসেছিল ‘ন্যাশনাল তওহিদ জামাত’ নামে একটি সংগঠনের, পাকিস্তানে যাদের অনেক সদস্য আছে বলে জানা যায়। এই বিস্ফোরণে শ্রীলঙ্কার সরকারও ওই সংগঠনকেই সন্দেহ করছে।

শ্রীলঙ্কায় যে ক্রমশ মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের প্রভার বাড়ছে, সেব্যাপারে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সতর্ক করেছিল। লস্কর-ই-তইবা ও তাদের সমগোত্রীয় সংগঠনগুলির প্রতিপত্তি যে বাড়ছে, সেই রিপোর্ট আগেই দেওয়া হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ২০১৬ থেকেই সিরিয়া, আফগানিস্তানের পর শ্রীলঙ্কায় কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল লস্কর-ই-তইবার চ্যারিটি সংগঠন ফালাহ-এ-ইনসানিয়াত। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপে সুনামির পর উদ্ধারকাজেও অংশ নিয়েছিল ইদারা খিদমত-এ-খালক নামে লস্করেরই একট সংগঠন। তখন থেকেই তারা প্রভাব বাড়াচ্ছিল বলে অনুমান। কিন্তু ভারতের সেই সতর্কবার্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, ৪ এপ্রিল ভারত সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে জঙ্গিরা ছক কষছে। বেশ কিছু তথ্যও দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১০। শ্রীলঙ্কা জুড়ে জারি রয়েছে ধরপাকড়৷ আহত ৫০০র বেশি৷ কোনও সংগঠন এখনও অবধি ঘটনার দায় স্বীকার করেনি৷ তবে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, এই হামলার পিছনে হাত রয়েছে কট্টর ইসলামিক সংগঠন এনটিজের৷ আন্তর্জাতিক কোনও সংগঠনের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি৷

ইতিমধ্যে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক আছে৷ সোমবার এমনই দাবি করেন সেদেশের মন্ত্রী রাজিতা সেনারত্নে৷ জানান, রবিবার আটটি বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে সাত জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক৷