নয়াদিল্লি: শ্রীলঙ্কাকে টার্গেট করেছে জঙ্গিরা৷ দ্বীপরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলার ছক কষেছে তারা৷ গোপন সূত্রে এমনই খবর পায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি৷ সেই মতো শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করা হয়৷ সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, বিস্ফোরণের দু’ঘণ্টা আগেও শ্রীলঙ্কাকে সম্ভাব্য নাশকতা নিয়ে সতর্ক করে ভারত৷ তার কিছু পরেই ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দ্বীপরাষ্ট্রটি৷

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শ্রীলঙ্কাকে জঙ্গি হামলা নিয়ে সতর্ক করে ভারত৷ সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৪ এপ্রিল ভারত সরকার শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে জানায় জঙ্গিরা তাদের দেশে নাশকতা ঘটাতে চলেছে৷ এমনকী বিস্ফোরণের একদিন আগে অর্থাৎ ২০ এপ্রিল আরও একবার ভারত শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক করে৷ এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারতের কাছ থেকে বারবার সতকর্তা পেয়েও নাশকতা রুখতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা সরকার? বিশেষজ্ঞদের মতে, নাশকতা রুখতে শ্রীলঙ্কা সরকার কোনও তৎপরতাই দেখায়নি৷

এদিকে ভয়াবহ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের দুদিন পরে ঘটনার দায় স্বীকার করল ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন৷ সংগঠনের এএমএকিউ নামের সংবাদসংস্থায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই জানানো হয়েছে৷ মঙ্গলবার এই নিউজ এজেন্সির তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ মাধ্যমে৷

তবে আইএসের তরফ থেকে সরাসরি এই দায় স্বীকার করা হয়নি৷ এমনকি এই ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে কোনও তথ্য প্রমাণও দেওয়া হয়নি৷ রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খবর ইসলামিক স্টেটই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে৷ এই বিস্ফোরণে ইতিমধ্যেই ৩২১ জনের মৃ্ত্যু হয়েছে৷ ৫০০ জনেরও বেশি আহত৷

এদিকে মঙ্গলবার জানা গিয়েছে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার বদলা নিতে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস জঙ্গিরা৷ প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করছে শ্রীলঙ্কা সরকার৷ মঙ্গলবার সরকারের এক মন্ত্রী পার্লামেন্টে একটি রিপোর্ট পেশ করেন৷ সেই রিপোর্টে ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে জোড়া হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ওই হামলার বদলা নিয়ে ইস্টার সানডের দিন গির্জা ও হোটেলগুলিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷”