নয়াদিল্লি: শুধু সদ্বিচ্ছা দেখালেই চলবে। করোনা কবলিত চিনের বিভিন্ন এলাকায় আটকে থাকা পাক পড়ুয়া ও পাক নাগরিকদের তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে ভারত। ইতিমধ্যেই দিল্লির তরফে ইসলামাবাদকে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের তরফে ভারতের এই বার্তার এখনও কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।

দিন কয়েক আগেই বন্ধু চিনের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে নাগরিকদের সেদেশ থেকে ফেরানো হবে না বলে সাফ জানিয়েছিল পাকিস্তান। চিনের এই ‘দুর্দিনে’ তাদের প্রতি সমবেদনা জানাতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পাক প্রশাসনের তরফএই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চিনের ইউহান প্রদেশের একাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকশো পাক পড়ুয়া পড়াশোনা করেন। ইউহানে মারণ করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত হয়ে কারও না কারও মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন কয়েক হাজার বাসিন্দা।

পাকিস্তানে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই নেই বলে জানিয়েছেন এবিষয়ে সম্যক ধারণা থাকা বিশেষজ্ঞরা। এমনকী সেই কথা মেনেও নিয়েছেন চিনে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত নাঘমনা হাসমিন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকাতেই চিনে থাকা নাগরিকদের ফেরাতে চাইছে না পাকিস্তান।

এদিকে, পাক প্রশাসনের এহেন সিদ্ধান্তে ঘোরতর বিপাকে চিনের ইউহান প্রদেশে আটকে থাকা পাকিস্তানি পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, ইউহানে চরম উঠেছে খাদ্য সংকট। সাধারণ মানুষ কোনও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন ঘরবন্দি হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। দেশে ফেরার জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানালেও সাড়া মেলেনি।

অন্যদিকে, চিনে আটকে থাকা ভারতীয়দের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছে দিল্লি। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই মালদ্বীপের ৭ বাসিন্দা-সহ ৩২৩ জন ভারতীয়কে নিয়ে ফেরে দ্বিতীয় বিশেষ বিমান। তাঁদের আপাতত দিল্লির মানেসরের ‘করেনটাইন’ সেন্টারে রাখা হয়েছে।

চিন থেকে পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের ফেরাতে না পারলও এব্যাপারে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তু বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার চাইলে ও অনুমতি দিলে ভারতও পাকিস্তানি পড়ুয়া ও নাগরিকদের উদ্ধার করে নিয়ে আসতে পারে। শুধু পাকিস্তানকে এব্যাপারে সদিচ্ছা দেখাতে। পাকিস্তান অনুরোধ পাঠালেই ভারত পাক নাগরিকদের উদ্ধার করে আনবে।