নয়াদিল্লি: চুক্তি সত্ত্বেও ভারত দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ না খেলায় বিসিসিআই-এর বিরুদ্ধে ৭ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে মামলা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু তিনদিনের শুনানির পর মঙ্গলবার পিসিবি-র সেই দাবি খারিজ করে দেয় আইসিসি-র ডিসপুট প্যানেল। তবে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পক্ষে আরও একবার সওয়াল জানালেন পাকিস্তানের অল-রাউন্ড ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আফ্রিদি জানালেন, ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রতিদ্বন্দ্বীতা অ্যাসেজের চেয়েও বড়।

আফ্রিদি জানিয়েছেন, ‘ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া অ্যাসেজ সিরিজকে বিশ্বক্রিকেটে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান পাঁচ দিনের ম্যাচ অ্যাসেজের চেয়েও বড়।’ ১১ বছর আগে ভারতের মাটিতে শেষবার টেস্ট সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিল দুই দল। তিন ম্যাচের সেই টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিল ভারত। এরপর দু’দেশের রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় প্রতিবেশী দেশের দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ। একমাত্র আইসিসি’র কোনও ইভেন্ট ছাড়া বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান লড়াই থেকে বঞ্চিত হন ক্রিকেট অনুরাগীরা।

প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের ক্রিকেট যাতে পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায় সেই উদ্দেশ্যে ২০১৪ একটি মউ স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মধ্যে। ভারত-পাক ক্রিকেট বোর্ডের সেই চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী আট বছরে (২০১৫-২০২৩) ছ’টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে দু’দেশ৷ কিন্তু সীমান্তে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ খেলতে বিসিসিআই-কে অনুমতি দেয়নি ভারত সরকার৷

ফলে বিসিসিআই-এর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে ৭ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছিল পিসিবি৷ কিন্তু সম্প্রতি পিসিবি’র সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে আইসিসি’র ডিসপুট প্যানেল। এই ঘটনার ঠিক পরপরই আফ্রিদির এমন মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

আফ্রিদির এই বক্তব্যের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার রামিজ রাজাও। পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে ভারত-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ বেশি করে প্রয়োজন বলে মত তাঁর। রামিজের কথায়, ‘টেস্ট ক্রিকেটের উন্মাদনা বাঁচিয়ে রাখতে ভারত-পাকিস্তানের উচিৎ পরস্পরের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলা। ভারত-পাক সিরিজ সবসময়ই একটা আলাদা উন্মাদনা ও গুরুত্ব বহন করে। ক্রিকেটাররাও চাপের মাথায় কীভাবে ক্রিকেট খেলতে হয়, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারে।’