চেন্নাই: দেশে এই প্রথম রূপান্তরকামী পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হচ্ছে হস্টেল। তামিলনাড়ুর রূপান্তরকামী পড়ুয়ারা প্রথম পেতে চলেছেন এই হস্টেল। তিরুচিরাপল্লীতে এই হস্টেল তৈরি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সকলেই বলছেন, তামিলভূমের রূপান্তরকামীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ এই হস্টেলটি। তবে সরকার নয়, এই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে তিরুচিরাপল্লীর একটি বেসরকারি স্কুল। এই স্কুলের নাম স্বামী শিবানন্দ বিদ্যাস্মৃতি বিদ্যালয়। সোমারাসামপেত্তাইয়ের এই স্কুলের ক্যাম্পাসেই তৈরি হচ্ছে হস্টেলটি। তবে শুধুমাত্র রূপান্তরকামীদের জন্য নয়, পুরোপুরি এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জন্য তৈরি হচ্ছে এই হস্টেল৷

রিপোর্ট বলছে, এই সম্প্রদায় ভুক্তরা যখন শিশু অবস্থায় থাকবে তখনই তাকে হস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তৃতীয় লিঙ্গের বাচ্চাদের অভিভাবকরা প্রায়শই অস্বীকার করে। ফলে রাস্তায় জীবনযাপন করতে বাধ্য হয় তারা। তাদের এই করুণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন : পুণ্য শ্রাবণ মাসে গরু বলে দেয় আপনার ভবিষ্যত : রবার্ট ভডরা

সবচেয়ে বড় সুখবর, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হস্টেলের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই স্কুল তৈরি করতে সময় লাগছে ২ বছর।

রিপোর্ট আরও বলছে, এই হস্টেল বানাতে খরচ পড়ছে ৩২ লক্ষ টাকা। তিরুচিরাপল্লীর রোটারি ক্লাব ‘শক্তি’ এই কাজে উদ্যোক্তাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, এই হস্টেলের নাম রাখা হতে চলেছে ‘শিবশক্তি।’ ভিত্তি প্রস্তরেও এমন নামের উল্লেখ রয়েছে। প্রথমে ৪০ জন পড়ুয়ার থাকার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে হস্টেলে। তাছাড়া ওই সমস্ত নাবালক পড়ুয়াদের ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানসিক, নৈতিক এবং শারীরিক বিকাশের দায়িত্ব নেবে হস্টেল।

স্বামী শিবানন্দ বিদ্যাস্মৃতির সিইও তথা প্রতিনিধি মাজ জেন এনআরকে বাবু ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ওই সমস্ত শিশুদের পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রস্তুত হস্টেল।তিনি আরও বলেন, “আমরা ওঁদের কলেজে পড়াব। ওঁরা উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।”