অকল্যান্ড: ইডেন পার্কের ব্যবহৃত বাইশ গজে টস জিতে যে পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কেন উইলিয়ামস, তাতে বিশেষ সফল হলেন না তিনি। বরং বলা ভালো প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা একেবারেই সফল হতে দিলেন না কোহলির দলের বোলাররা। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে কিউয়িদের ১৩২ রানে বেঁধে রাখলেন জসপ্রীত বুমরাহ-রবীন্দ্র জাদেজারা।

প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ভারতকে ২০৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় বোলারদের ব্যাটিং তান্ডবে যদিও পাহাড় প্রমাণ রান ডিফেন্ড করা সম্ভব হয়নি কিউয়ি বোলারদের পক্ষে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এদিনও টস জিতে প্রথম ম্যাচের মতই প্রথমে ব্যাট করার অপশন বেছে নেন কেন উইলিয়ামসন। শুরুটা দাপটের সঙ্গেই করেছিলেন দুই ওপেনার মার্টিন গাপতিল ও কলিন মুনরো। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে গাপতিল ফিরতেই তাল কাটল ব্ল্যাক ক্যাপস শিবিরে।

২০ বলে ঝোড়ো ৩৩ রান করে ভারত অধিনায়কের দুরন্ত ক্যাচে ডাগ-আউটে ফেরেন গাপতিল। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে বড় রানের রাস্তা থেকে ক্রমশ পিছু হটে নিউজিল্যান্ড। সেই সুযোগে ইডেন পার্কের বাইশ গজে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় বোলাররা। ২৫ বলে ২৬ রান করে ফেরেন মুনরো। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সংগ্রহে ২০ বলে মাত্র ১৪ রান। মাত্র ৩ রানে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা।

১২.৩ ওভারে ৮১ রানে ৪ উইকেটে হারানো নিউজিল্যান্ড শিবিরের হাল ধরেন রস টেলর ও টিম সেইফার্ট। ডেথ ওভারে রবীন্দ্র জাদেজা, মহম্মদ শামি কিংবা জসপ্রীত বুমরাহদের আঁটোসাটো বোলিংয়ের সামনে পার্টনারশিপ তৈরি করে ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেন তাঁরা।

বড় রানের লক্ষ্য ভুলে পঞ্চম উইকেটে ৪৪ রানের অবদান রাখতে সমর্থ হন দুই কিউয়ি ব্যাটসম্যান। ১৯.৪ ওভারে ২৪ বলে ব্যক্তিগত ১৮ রানে আউট হন রস টেলর। জাদেজা-বুমরাহদের সামনে তেমন আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগই পাননি তিনি। শেষ অবধি সেইফার্টের ২৬ বলে ৩৩ রানের সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩২ রান তুলতে সমর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ দিয়ে ২ উইকেট নেন জাদেজা।

৪ ওভারে ২১ রানে দিয়ে ১ উইকেট বুমরাহর। এছাড়াও একটি করে উইকেট শিবম দুবে ও শার্দুল ঠাকুরের ঝুলিতে। অর্থাৎ, গত ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সের ধারা এই ম্যাচে বজায় থাকলে সিরিজে ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়া ভারতের জন্য শুধু সময়ের অপেক্ষা।