নয়াদিল্লি: কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান যেভাবে ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে তাতে আর কোনও সৌজন্যের পথে হাঁটছে না ভারত। এমনকি সৌজন্যের জন্য এতদিন পর্যন্ত যে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানকে দেওয়া হত, সেটাও এবার বাতিল করে দিল ভারত। ১৯৮৯-তে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছিল।

১৯৮৯-তে হাইড্রোলজিক্যাল ডেটা আদান-প্রদান করার যে চুক্তি হয়েছিল, তা এবছর আর রিনিউ করছে না ভারত। সৌজন্যমূলকভাবেই এই চুক্তি প্রত্যেকবার পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু এবার মত বদলেছে নয়াদিল্লি। কাশ্মীর নিয়ে যে উত্তেজনা চলছে তারপর আর এই চুক্তি বহাল রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনার অফ ইন্দাস ওয়াটার পিকে সাক্সেনা। তবে এর সঙ্গে সিন্ধু চুক্তির কোনও সম্পর্কে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

মূলত পুলওয়ামা হামলা ও কাশ্মীর নিয়ে অশান্তির জন্যই এবার এই চুক্তি বহাল রাখছে না ভারত। জল যদি মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন সেই সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানকে দেয় ভারত।

এদিকে, ইসলামাবাদের অভিযোগ, ভারতের কারণে নাকি বন্যায় ভাসছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জল এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হোসেনের অভিযোগ, কোনও ধরণের ঘোষণা ছাড়াই একটি বাঁধ খুলে দেওয়ায় কারণে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জলকে হাতিয়ার করেই নাকি এখন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বমুখী যুদ্ধ শুরু করেছে। এমনটাই মনে করছে ইসলামাবাদ।

মোজাম্মিল হোসেনের দাবি, ভারত এখন জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফিফথ জেনারেশনের যুদ্ধ শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, ভারত পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে এবং অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে। আর তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জলকে ব্যবহার করছে, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন এই পাক আধিকারিক।

তাঁর আরও দাবি, স্বাভাবিকভাবেই জল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। এবং কৃষি ও সেচের ক্ষেত্রে জলের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। আর সেজন্যেই ভার‍ত এই কৌশলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের জল এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।