আবুধাবি: ২০১৮ চৌদ্দ ম্যাচ খেলে ৫১২ রান (৪টি অর্ধশতরান)। ২০১৯ ষোলো ম্যাচে ৪২৪ রান (২টি অর্ধশতরান)। ২০২০ এখনও অবধি ১২ ম্যাচে ৩টি অর্ধশতরান সহযোগে ২৬২ রান। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে বছরের পর বছর এমন ঈর্ষনীয় পারফরম্যান্স করেও জাতীয় দলের আঙিনায় এখনও ব্রাত্য সূর্যকুমার যাদব। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় স্কোয়াডে সুযোগ না পাওয়ার দু’দিন পর আবুধাবিতে এদিন অপরাজিত ৭৯ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেন মুম্বইকার ব্যাটসম্যান। ম্যাচ জিতিয়ে ইশারায় যেন জানান দিলেন এখনও ধৈর্য্য হারায়নি আমি। জাতীয় দলের দরজা না খুললেও এভাবেই সবসময় দলের প্রয়োজনে পাশে থাকব।

হ্যাঁ, এই আশ্বাস কিংবা আত্মবিশ্বাসটুকু ছাড়া বোধহয় আর কিছুই হাতে নেই সূর্যকুমারের। নিজেকে প্রমাণের পরেও জাতীয় দলে দিনের পর দিন ব্রাত্য থেকে ভিতরে ভিতরে দারুণ ব্যথিত তিনি। কিন্তু মুখে রা কাটেন না কিছুতেই। আরসিবির বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর সূর্য কুমারের আপাত নিরীহ সেলিব্রেশনটা বলে দিল অনেক কথাই। আর ভারতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি সূর্যকে যে দারুণভাবে আঘাত করে সে ব্যাপারে নিশ্চিত মুম্বইয়ের স্টপগ্যাপ অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ের পর দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার।

দু’টো উইকেট খোয়ানোর পরেও এদিন চলতি টুর্নামেন্টে অন্যতম সেরা বোলিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে সূর্যর মারকাটারি ব্যাটিং মোহিত করেছে পোলার্ডকে। ৪৩ বলে মুম্বই ব্যাটসম্যানের ৭৯ রানের ইনিংসে এদিন ছিল ১০টি চার এবং ৩টি ছয়। পোলার্ড ম্যাচ শেষে বলেন, ‘ভাবুন শুরুতেই দু’টি উইকেট হারানোর পরেও কেউ যদি এমন স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে তাহলে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতে না পারার কারণে সে নিশ্চয় ভিতর ভিতর অনেকটা হতাশ। ও দিন দিন নিজেকে আরও পরিণত করছে। তাই আবারও বলছি এমন ধারাবাহিক থাকলে তার পুরস্কার তুমি পাবেই। কোনও কিছুই সময়ের আগে ধরা দেয় না।’

আর ম্যাচ শেষে ১৮৩.৭২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে ম্যাচ জেতানো ব্যাটসম্যান নিজে বলছেন, ‘অনেকদিন ধরে নিজে হাতে ম্যাচ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে করা যায়। আর সেজন্য আমার খেলাকে আমি পুরোপুরি জেনেছি। লকডাউনে নিজেকে অনেক সময় দিয়েছি, ধ্যান করেছি ক্রিজে সেরাটা মেলে ধরার জন্য।’ ম্যাচের পর নিরীহ সেলিব্রেশনটাও ওই ধ্যান বা যোগারই ফল। ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে হর্ষ ভোগলেকে জানান সূর্য।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।