নয়াদিল্লি: অবাক করে দিয়ে শেয়ার বাজারের সূচকের যতই বৃদ্ধি হোক না কেন দেশের আর্থিক বেহাল দশা নানা ভাবেই ফুটে উঠছে৷ শিল্পে মন্দা দশা প্রতিফলিত হচ্ছে এবার বিদ্যুতর চাহিদার ক্ষেত্রেও৷অক্টোবর মাসে বিদ্যুতের চাহিদা ভীষণ ভাবেই কমে যেতে দেখা গিয়েছে৷ চাহিদা এতটাই কমেছে যে গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়েছে। লক্ষ্য করা গিয়েছে, এই বছরের অক্টোবর মাসে গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে চাহিদা কমেছে ১৩.২শতাংশ। সরকারি তথ্য থেকেই এমনটা জানা গিয়েছে৷

যা দেখে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী সরকার যতই মন্দার কথা স্বীকার না করুক কেন, তা যে রীতিমতো ডালপালা বিস্তার করে ছড়িয়ে পড়েছে তা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হচ্ছে৷পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য, এভাবে মন্দা যত প্রকট হবে ততই আশংকা বৃদ্ধি পাবে মোদী সরকারের ৫ লক্ষ কোটির মার্কিন ডলারের অর্থনীতির গড়ার যে স্বপ্ন রয়েছে তা ভঙ্গ হওয়ার৷

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ বোর্ড (সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি বোর্ড)থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান জানিয়েছে, চাহিদার ক্ষেত্রে তুলনায় এমন ঘাটতি হওয়ার কথা। সাধারণতঃ শিল্পপ্রধান রাজ্যগুলিতে বিদ্যুতের চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এবার বিদ্যুৎ বোর্ডের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মহারাষ্ট্রে বিদ্যুতের চাহিদা কমে গিয়েছে ২২.৪ শতাংশ এবং একই রকম ভাবে গুজরাতে কমেছে ১৮.৮ শতাংশ।পাশাপাশি আবার লক্ষ্য করা গিয়েছে, উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতেও বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে।

এই সব তথ্য জানাজানি হওয়ার পরে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গাড়ি বা এফএমসিজি ক্ষেত্রেই নয়, মন্দার প্রভাব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে সব ক্ষেত্রেই। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন ধরে চললে এদেশের অর্থনীতিতে মন্দা রীতিমতো জাঁকিয়ে বসবে বলেও অনেকে আশংকা করছেন।

এদিকে ইতিমধ্যেই চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসেই রাজকোষ ঘাটতি যা ধরা হয়েছিল তার ৯২.৬ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। শিল্প ক্ষেত্রে খারাপ সময়ের ইঙ্গিত দিয়েছে জিএসটি আদায় কমে যাওয়ার মাধ্যমে।চিন্তা বেড়েছে কর্মসংস্থান এবং বেকারত্ম নিয়েও৷ যেহেতু সিএমআইই-র পরিসংখ্যান জানিয়েছে অক্টোবরে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ৮.৪৮ শতাংশে।যা গত তিন বছরে সর্বোচ্চ। উৎসবের মরসুমেও বিক্রি বাটার হাল খারাপ৷ এই পরিস্থিতিতে নানা ভাবে সমালোচনার মুখে পড়ায় কেন্দ্রের দু্শ্চিন্তা বাড়ছে। এবার বিদ্যুতে চাহিদায় এমন বেহাল দশা উঠে আসায় দেশের গোটা আর্থিক পরিস্থিতি করূণ দশাটাই যেন অন্যমাত্রা পেল৷ মোদী সরকারের দুশ্চিন্তা আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প