লাদাখ : সামরিক আলোচনায় সাময়িক মিটেছে ভারত চিনের সীমান্ত সমস্যা। তবে এত সহজে এলাকা ছাড়তে রাজী নন লাদাখের বিজেপি সাংসদ টিসেরিং নামগিয়াল। তিনি বলেন কেন্দ্রের উচিত চিনের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্ত এলাকায় কার্যকলাপ আরও বাড়ানো।

কারণ চিনের দাদাগিরি কোনওভাবেই ভারত বরদাস্ত করবে না। নামগিয়ালের মতে আকসাই চিন ভারতেরই অংশ। তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত ভারতের। তাঁর আরও প্রস্তাব, যদি ভারত চিন সীমান্ত বরাবর নিজেদের উন্নয়নমূলক কাজ, যেমন রাস্তা তৈরি আরও বাড়ায়, তবে স্থানীয় মানুষও উৎসাহ পাবেন সীমান্তের কাছে গ্রামগুলিতে থাকতে। সীমান্তে দেশের জোর আরও মজবুত হবে।

নামগিয়াল এদিন বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সঠিক পথে এগোচ্ছেন। তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে লাদাখের বিজেপি সাংসদ আরও জানান, আকসাই চিন নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করতে হবে। এটা ভারতেরই অংশ। তাঁর মতে শাকসগম ভ্যালি, যা চিনকে দিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান, তাও ভারতেরই অংশ। জবরদখল করে তা নিজেদের দখলে রেখেছে চিন।

উল্লেখ্য, ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাত নতুন করে উসকে গিয়েছে। তাই খুঁজে দেখা হচ্ছে ইতিহাস। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের চিনের মানচিত্র খুঁজে দেখা গিয়েছে আকসাই চিন ১৯৬২ সালের যুদ্ধের আগে লাদাখেরই অংশ ছিল।

আকসাই চিন নিয়ে ১৯১৯ সালের তিব্বতের একটি মানচিত্রের উল্লেখ টেনে প্রাক্তন লেফট্যানেন্ট জেনারেল গুরমিত সিং বলেছেন, ‘ভারতের ধারণার সঙ্গে সহমত’। ইণ্ডিয়া টুডে’র তরফে ১৮৯৩ এবং ১৯০৯ সালের অন্য মানচিত্র খুঁজে দেখা হয়েছে। ভারত-চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাত এবং কূটনৈতিক চাপের মাঝেই এমন তথ্য উঠে আসছে।

সম্প্রতি, ভারত-চিন সেনা লাদাখের পূর্ব এবং সিকিমের উত্তরাংশে মুখোমুখি খন্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তারই প্রেক্ষিতে এমন বক্তব্য লাদাখের সাংসদের। তবে এতদিন পরে এই এলাকা নিয়ে সংঘাত তৈরি করা কতটা সম্ভব বলে প্রশ্ন করা হলে এই বিজেপি সাংসদ জানান, বিষয়টা কঠিন হতে পারে, কিন্তু অসম্ভব নয়। শেষ একমাসে ভারত-চিন সম্পর্কের তিক্ততা কাটাতে কূটনৈতিকস্তরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শেষমেশ তার ফলাফল অশ্বডিম্ব ছিল।

সীমান্তের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় চিন ক্ষমতা কায়েম করতে বিশালসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে, ভারতও শক্তি প্রদর্শনে পিছিয়ে যায়নি। সেনা সূত্রে খবর ছিল, লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে চিন যুদ্ধাস্ত্র মজুত করছে। দিনে-দিনে সেইসব সমরাস্ত্রের বহর বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সীমান্তে সেনা গতিবিধিও লক্ষ্যণীয়ভাবে বাড়াচ্ছে বেজিং। চিনা গতিবিধি তৎপর হতেই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতও। তবে আপাতত সব নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।