নয়াদিল্লি: চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ মামলা৷ সোমবার তারই সুনানিতে পাকিস্তানের সঙ্গে আইনি লড়াই ভারতের৷ দু’দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা বিবেচ্য হলে, ভারতকে বিশেষ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না৷ তবে মধ্যস্থতাকরী এবং বিচারকের ভূমিকায় থাকা আইসিসি’র মগডালে যখন ঘর শত্রু বিভীষণ বসে রয়েছেন, তখন বিশাল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতেই পারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে৷

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে ‘গো হারা’ হারাল ভারত

২০১৪ সালে ভারত-পাক দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয় ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছ’টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার, যার প্রথম সিরিজটি আয়োজন করার কথা ছিল পিসিবি’র৷ অথচ সীমান্তে পাকিস্তান ধারাবাহিক সন্ত্রাস চালিয়ে যাওয়ার ভারত সরকার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্রিকেট সিরিজ খেলার অনুমতি দেয়নি বিসিসিআইকে৷

পাক বোর্ড অনুনয়-বিনয়ে ব্যর্থ হলে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইসিসির দ্বারস্ত হয়৷ দুবাইয়ে সেই মামলারই তিন দিনের সুনানি শুরু হওয়ার কথা সোমবার৷ আইসিসি ব্রিটিশ আইনজীবি মাইকেল বিলোফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গড়ে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করেছে৷ যেখানে সাক্ষ দিতে যাওয়ার জন্য বিসিসিআই একাধিক প্রাক্তন বোর্ডকর্তার দ্বারস্ত হয়৷

আরও পড়ুন: এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করল ভারত

যদিও তার আগেই বোর্ডের কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম হার্বার্ট স্মিথ ফ্রিহিলস ও স্পোর্টস ডিসপুটি বিশেষজ্ঞ ইয়ান মিলকে নিয়োগ করেছে হেয়ারিংয়ে বিসিসিআইয়ের হয়ে সওয়াল করার জন্য৷পিসিবি’র সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের অন্যতম তিন শরিক প্রাক্তন বোর্ড কর্তা এন শ্রীনিবাসন, অনুরাগ ঠাকুর ও সঞ্জয় প্যাটেল, তিনজনই আইসিসিতে গিয়ে বিসিসিআইয়ের হয়ে সাক্ষ দিতে অস্বীকার করেছেন৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অপসারিত বোর্ড সভাপতি অনুরাগ ঠাকুর তো এককথায় এর প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই কোনও ভুল করেনি৷ তাই সুনানিতে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই৷ ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ডের আভ্যন্তরীন বিষয়৷ এতে আইসিসি’র নাক গলানোর কোনও এক্তিয়ার নেই৷ আইসিসি কোনও দেশকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাধ্য করতে পারে না৷’

আরও পড়ুন: ভারতীয়দের থেকে শেখা উচিৎ পাকিস্তানের: মালিক

অনুরাগ আরও বলেন, ‘পাকিস্তানকে এক পয়সাও দেওয়া উচিত নয় ভারতের৷ আগে পাকিস্তান সন্ত্রাস বন্ধ করুক৷ তার পর আমরা ওদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার কথা ভাবব৷’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্তা অবশ্য কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সকে তীব্র আক্রমণ করেন আইসিসির সুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য সংস্থা নিয়োগ করায়৷ তাঁর মতে, বিসিসিআই যদি অভিজ্ঞ ক্রীড়াপ্রশাসকরা পরিচলনা করত, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না৷ এখন সিওএ যা পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে ভারতীয় বোর্ডকে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে৷’