রাজকোট: দুরন্ত ধাওয়ান, অনবদ্য কোহলি আর আক্রমণাত্মক রাহুল৷ রাজকোটে ভারতীয় ইনিংসের সারমর্ম এটাই৷ ওয়াংখেড়ে অজিবাহিনীর কাছে দুরমুশ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই দুরন্ত ব্যাটিং উপহার টিম ইন্ডিয়ার৷ শুক্রবার রাজকোটে সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩৪১ রানের টার্গেট রাখল ভারত৷

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম ভারতের জন্য মোটেই পয়মন্ত নয়৷ এর আগে ভারত দু’টি ওয়ান ডে খেলেছে এখানে৷ দু’বারই হেরেছে ‘মেন ইন ব্লু’৷ ভারত প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচ খেলে ১১ জানুয়ারি, ২০১৩৷ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে থ্রিলার ম্যাচে ৯ রানে হারে ভারত৷ তারপর ১৮ অক্টোবর, ২০১৫ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৮ রানে হার হজম করে টিম ইন্ডিয়া৷

এদিনও টস ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি বিরাটের৷ টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত৷ ওপেনিংয়ে কোনও বদল না-হলেও তিন নম্বরে নিজের জায়গায় ফিরে এসে রান করেন ক্যাপ্টেন কোহলি৷ পাঁচ নম্বরে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল৷ ওপেনিং জুটিতে ১৩.৩ ওভারে ৮১ রান যোগ করে ভারতকে দারুণ শুরু দেন দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা৷

এদিন ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৭০০০ রানের মাইলস্টোন টপকে গেলেও অল্পের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয় রোহিতের৷ তবে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার আগে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে দ্রুততম সাত হাজার রানের মাইলস্টোন টপকে যান ‘হিটম্যান’৷ সচিন তেন্ডুলকর ও হাশিম আমলাকে পিছনে ফেলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন রোহিত৷

তাঁর ওপেনিং পার্টনার দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরলেও বড় রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করেন ধাওয়ান৷ দ্বিতীয় উইকেটে বিরাটের সঙ্গে ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ভারতীয় ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন তিনি৷ কিন্তু অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন বাঁ-হাতি ওপেনার৷ ৯০ বলে ১৩টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৯৬ রান করে রিচার্ডসনের শিকার হন ধাওয়ান৷

চার নম্বরে শ্রেয়স আইয়ার ব্যর্থ হলেও বিরাট দলকে এগিয়ে নিয়ে যান তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন রাহুল৷ পাঁচ নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দেন কর্নাটকের এই ডানহাতি৷ ৫২ বলে তিনটি ছক্কা ও ৬টি বাউন্ডারি-সহ ৮০ রান করে আউট হন রাহুল৷ এর আগে অবশ্য ৭৬ বলে ছয়টি বাউন্ডারি-সহ ৭৮ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন কোহলি৷ ফলে এদিন সচিন তেন্ডুলকরকে ছোঁয়ার স্বাদ অপূর্ণ থেকে যায় বিরাটের৷ শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৪০ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া৷