লন্ডন: ধাওয়ানের রাজকীয় শতরান, অধিনায়ক-ডেপুটির অর্ধশতরান, পান্ডিয়া-ধোনির সুপার ক্যামিও। কেনিংটন ওভালে রানের পাহাড়ে টিম ইন্ডিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে যার অফ ফর্ম নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছিল দলের অন্দরমহলে, প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্কদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠে সেই ধাওয়ান প্রমাণ করলেন তিনি ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’। অর্ধশতরান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত রোহিত শর্মার। একে একে এসে রানের খাতায় নিজেদের নাম লিখিয়ে গেলেন অধিনায়ক কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়া, মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রবলতর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৫২ রান তুলল টিম ইন্ডিয়া।

শিখর ধাওয়ানের সাম্প্রতিক অফ ফর্ম নিয়ে চিন্তিত ছিলেন যারা, তাদের আশ্বস্ত করে বাঁ-হাতি ওপেনার জানান দিয়ে গেলেন ফিরে আসার মঞ্চ হিসেবে বড় ব্যাটসম্যানরা সবসময় বড় মঞ্চকেই বেছে নেন। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স সমৃদ্ধ অজি বোলিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে ধাওয়ানের ফর্মে ফেরা নিয়ে চিন্তার শেষ ছিল না ভারতীয় ক্রিকেট অনুরাগীদের। কিন্তু রবিবাসরীয় ওভালে অজি বোলারদের শাসন করে ওয়ান-ডে ক্রিকেটের অষ্টাদশ শতরানটি তুলে নিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘গব্বর’।

টস জিতে বিরাটের প্রথমে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে কোনওভাবেই ভুল ছিল না ধাওয়ানকে যথাযোগ্য সাহায্য করে প্রমাণ করলেন ডেপুটি রোহিত। প্রথম ম্যাচে রোজ বোলের অসমান বাউন্স ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিব্রত করলেও অজি পেস আক্রমণের সামনে রবিবার ওভালে বেশ সপ্রতিভ ধাওয়ান-রোহিত। ২২.৩ বলে কুল্টার নাইলের বলে রোহিত যখন প্যাভিলিয়নে ফিরলেন অস্ট্রেলিয়া তখন অনেকটাই ব্যাকফুটে। স্কোরবোর্ডে টিম ইন্ডিয়ার নামের পাশে তখন জ্বলজ্বল করছে ১২৭ রান।

দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যানের অর্ধশতরানে এদিন ১৯ ওভারে শতরানের গন্ডি টপকে যায় ভারতীয় দল। ফের একবার ‘অ্যাঙ্কর’ ইনিংসে দলের যখন হাল ধরার চেষ্টা করলেন রোহিত, তখন রান রেট সচল রাখলেন ধাওয়ান। ৫৩ বলে অর্ধশতরান করলেও তিন অঙ্কের গন্ডি ছুঁতে গব্বর নিলেন ৯৫ বল। যদিও ৭০ বলে ৫৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ততক্ষণে সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন আপাত নিরীহ অথচ দায়িত্বশীল ‘হিটম্যান’। রোহিতের ইনিংস এদিন সাজানো ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়ে।

এরপর অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে চলতি বিশ্বকাপে দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান পূর্ণ করেন ধাওয়ান। রোহিত ফিরলেও কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রান যোগ করে মেন ইন ব্লু’কে ইতিমধ্যেই পাহাড়প্রমাণ রানের ভিতে দাঁড় করিয়ে দেন ধাওয়ান। ১৬টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৯ বলে ১১৭ রানের রাজকীয় ইনিংস খেলে প্রস্থান ঘটে গব্বরের। এরপর ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বরে উঠে এসে ২৭ বলে ৪৮ রানের দুরন্ত ক্যামিও খেলেন অল-রাউন্দার পান্ডিয়া। তৃতীয় উইকেটে কোহলির সঙ্গে ৮১ রান যোগ করে আউট হন তিনি।

১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলে দলকে ৩৫০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন ধোনি। অন্যদিকে ৭৭ বলে ৮২ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংসে সমর্থদের আশ্বস্ত করেন বিরাট। ৪টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস। প্রত্যাক ব্যাটসম্যানের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৫২ রান তোলে মেন ইন ব্লু। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন রাহুল। ১টি উইকেট নিলেও ১০ ওভারে ৭৪ রান খরচ করলেন মিচেল স্টার্ক। ২টি উইকেট সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার স্টোওনিস। যদিও মাত্র ৭ ওভারে ৬২ রান খরচ করলেন তিনি। সবমিলিয়ে বুমরাহ-ভুবিদের ফিকে করে জয় তুলে নিতে গেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে হবে অজিদের।