হ্যামিলটন: টি-২০ সিরিজ যেখানে শেষ করেছিল, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে সিরিজ যেন সেখান থেকেই শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ইনিংসে তাঁদের ব্যাটিং দেখে অন্তত এমনটা বলা যেতেই পারে। শ্রেয়স আইয়ারের দুরন্ত শতরান, সঙ্গে কেএল রাহুল ও অধিনায়ক বিরাট কোহলির অর্ধশতরান ভারতকে পৌঁছে দিল রানের পাহাড়ে। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ব্ল্যাক-ক্যাপসদের ৩৪৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিল ‘মেন ইন ব্লু’।

দুই নিয়মিত ওপেনারকে ছাড়াই কিউয়িদের বিরুদ্ধে ওয়ান-ডে সিরিজে মাঠে নামতে হল ভারতীয় দলকে। পরিবর্তে বিদেশের মাটিতে ওয়ান-ডে অভিষেক হল পৃথ্বী শ এবং ময়াঙ্ক আগরওয়ালের। ওপেনিং জুটিতে ৫০ রান তুললেও ব্যক্তিগতভাবে বড় রানের ইনিংস গড়তে ব্যর্থ দু’জনে। ২০ রানে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পৃথ্বী। অনতিপরেই ব্যক্তিগত ৩২ রানে সাউদির শিকার হন ময়াঙ্ক। তৃতীয় উইকেটে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার।

মূলত ক্রিজে থিতু হয়ে দলকে বড় রানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য ছিল দু’জনের। অর্ধশতরান করে সেই লক্ষ্যে সফল হন অধিনায়ক কোহলি। যোগ্য সঙ্গত দেন চার নম্বরে নামা শ্রেয়স আইয়ার। শ্রেয়সের সঙ্গে জুটি বেঁধে ১০২ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ৫১ রানে আউট হন অধিনায়ক বিরাট। কিন্তু অধিনায়ক আউট হলেও থামানো যায়নি শ্রেয়স আইয়ারকে। অধিনায়কের দেখানো পথেই চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে দলকে পাহাড়প্রমাণ রানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান শ্রেয়স-রাহুল জুটি। কিউয়ি বোলারদের শাসন করে ধীরে-ধীরে কেরিয়ারের প্রথম শতরানটি পূর্ণ করেন আইয়ার।

১০১ বলে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছনো শ্রেয়সের ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ১টি ছয়। পিছিয়ে ছিলেন না কেএল রাহুলও। ৬৪ বলে বিধ্বংসী ৮৮ রানের ইনিংস আসে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে। মিডল অর্ডারে নিজেদের অপ্রয়োজনীয়তা এদিন ফের বোঝালেন শ্রেয়স-রাহুল। তাঁর ইনিংস এদিন সাজানো ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায়। চতুর্থ উইকেটে ১৩৬ রান যোগ করে শ্রেয়স ব্যক্তিগত ১০৩ রানে আউট হলেও অপরাজিত থাকেন রাহুল। পঞ্চম উইকেটে কেদার যাদবের সঙ্গে তাঁর অবিভক্ত ৫৫ রানের পার্টনারশিপ ৩৫০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয় ভারতকে।

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান তোলে ভারতীয় দল। ১৫ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন যাদব। ২টি উইকেট নিলেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে এদিন ১০ ওভারে ৮৫ রান খরচ করেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ কিউয়ি বোলার টিম সাউদি। ১০ ওভারে ৭৭ রান খরচ করেন হামিশ বেনেট। একটি করে উইকেট পান কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও ইশ সোধি।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব