ভাইজ্যাগ: ব্যাটসম্যানদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ান-ডে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল টিম ইন্ডিয়া। চেন্নাই ম্যাচে হারের রেশ কাটিয়ে রোহিত-রাহুলের শতরান ও শেষ লগ্নে শ্রেয়স আইয়ার ও ঋষভ পন্তের ঝোড়ো ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে রানের বোঝা চাপিয়ে দিল ‘মেন ইন ব্লু’। ডু অর ডাই ম্যাচে পোলার্ড ব্রিগেডের বিরুদ্ধে ৩৮৭ রানের বিরাট স্কোর খাড়া করল ভারতীয় দল। অর্থাৎ, বিশাখাপত্তনমে জিতে সিরিজ জিততে ক্যারিবিয়ানদের দরকার ৩৮৮ রান।

‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে এদিন টসভাগ্য সঙ্গ দেয়নি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভাইজ্যাগেও টস জিতে ভারতীয় দলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কায়রন পোলার্ড। কিন্তু ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত এদিন ব্যুমেরাং সাব্যস্ত হতে থাকে সময় গড়ানোর সাথে সাথে। ক্রমেই ক্যারিবিয়ান বোলারদের উপর জাঁকিয়ে বসেন দুই ভারতীয় ওপেনার।

শুরু থেকেই শেলডন কটরেল, আলজারি জোসেফদের বিরুদ্ধে আক্রমণের পথ বেছে নেন রোহিত-রাহুল। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন রোহিত। যদিও ১৬তম ওভারে রোহিতের আগেই ৪৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন রোহিতের সঙ্গী রাহুল। প্রথম ম্যাচে মাত্র ৬ রানে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে নির্ভরতা জোগালো দক্ষিণী ওপেনারের চওড়া উইলো। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার নিরিখে রোহিত ছিলেন একটু স্লথ। তাঁর হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার আগেই ২১তম ওভারে দলের রান ১০০-র গন্ডি পেরিয়ে যায়।

২২তম ওভারে কিমো পলকে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ৪৩তম অর্ধশতরানটি পূর্ণ করেন রোহিত। এরপরও ক্যারিবিয়ানদের বোলারদের উপর দুই ভারতীয় ওপেনারের শাসন অব্যাহত থাকে। খ্যারি পিয়ের, আলজারি জোসেফদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৩৪তম ওভারে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ২৮তম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন ‘হিটম্যান’। ১০৭ বলে ১১টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে ৩৪ তম ওভারে শতরান পূর্ণ করেন কোহলির ডেপুটি। অর্ধশতরানের তুলনায় স্ট্রাইক রেটের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে রাহুলের আগে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছে যান রোহিত। ওই একই ওভারে দ্বিশতরানের গন্ডি পেরিয়ে যায় মেন ইন ব্লু। একইসঙ্গে চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে কোহলিকে টপকে ওয়ান-ডে’তে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন সহ-অধিনায়ক।

৩৭তম ওভারে আলজারি জোসেফের ডেলিভারি বাউন্ডারিতে ঠেলে কেরিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ান-ডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাহুল। যদিও এরপর তাঁর ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ওই একই ওভারে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নমুখো হন তিনি। ১০৪ বলে রাহুলের ১০২ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছয়ে। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২২৭ রান। উলটোদিকে শতরান পূর্ণ করে আরও মারমুখী হয়ে ওঠেন ‘হিটম্যান’। ১৩২ বলে দেড়শতরানের গন্ডি পার করে ফেলেন বিশ্বকাপের সর্বাধিক রানসংগ্রাহক।

৪৪তম ওভারে রোহিত আউট হওয়ার পর বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন শ্রেয়স আইয়ার ও ঋষভ পন্ত। ৪৬ ও ৪৭তম ওভারে যথাক্রমে ২৪ ও ৩১ রান নিয়ে দলের রান ৩৫০’র গন্ডি পার করে দেন দুই তরুণ ব্যাটসম্যান। ৩টি চার ও ৪টি ছয়ের সাহায্যে ১৬ বলে ৩৯ রান করে পন্ত আউট হলেও দুরন্ত অর্ধশতরান পূর্ণ করেন আইয়ার। ৩টি চার ও ৪ ছক্কার সাহায্যে ৩২ বলে ৫৩ রান করে আউট হন দিল্লি ক্যাপিটালস অধিনায়ক। ১০ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন কেদার যাদব। শেষমেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৮৭ রান তোলে ভারতীয় দল।