নয়াদিল্লি: ১৪ ই জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশপথ ভারতীয় বিমানের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা আগেই করেছিল পাকিস্তান৷ সেই প্রেক্ষিতে নয়া আবেদন করল ভারত৷ ১৩ ও ১৪ই জুন কিরঘিজস্তানের বিশেখ সফরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ সেখানে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর৷

এই সামিটে যোগ দিতে গেলে পাকিস্তানের আকাশপথ বাধ্যতামূলক৷ কারণ বিমানের রুটেই পড়ছে পাকিস্তানের আকাশপথ৷ উচ্চপদস্থ এক সরকারি আধিকারিক জানান, ইসলামাবাদের কাছে নয়াদিল্লির আবেদন মোদীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য যেন তাদের আকাশপথ খুলে দেওয়া হয়৷

উল্লেখ্য ২১ শে মে পাকিস্তান ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের এসসিও সামিটের জন্য নিজেদের আকাশপথ খুলে দিয়েছিল৷ পাকিস্তানের ওপর দিয়েই সরাসরি কিরঘিজস্থানের উদ্দ্যেশ্যে উড়ে গিয়েছিল সুষমা স্বরাজের বিমান৷ দক্ষিণ পাকিস্তানের ওপর দিয়ে যাওয়া কিরঘিজস্তানের উদ্দ্যেশ্যে যাওয়া বিমানের রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে৷ তাই এই আবেদন ভারতের৷

আরও পড়ুন : নিশানায় ফের পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা মোদীর

এদিকে এর আগে জানানো হয়েছিল ভারতের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে৷ ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৪ই জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না ভারত৷ ১৬ই মে জানানো হয়েছিল ৩০শে মে পর্যন্ত আকাশপথ বন্ধ থাকার কথা৷ কিন্তু সেই সময়সীমা পরে বাড়ানো হয়৷

পাকিস্তান নিজের আকাশপথ ব্যবহার ভারতের জন্য বন্ধ করেছিল ফেব্রুয়ারি মাসে৷ বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকেই পাকিস্তান নিজের আকাশপথের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ক্যাম্পে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রাইক করে৷ তবে ২৭ মার্চ সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করে পাক সরকার৷ কেবলমাত্র নয়াদিল্লি, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুর ছাড়া সব বিমান ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন : মোদী কোনওদিনই কেরলকে বারাণসীর মত গুরুত্ব দেবেন না : রাহুল

বালাকোটে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করেই জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান৷ সেই রকম হামলা আবারও হতে পারে৷ এই আশংকা থেকেই পাকিস্তান নিজের আকাশপথ ব্যবহার ভারতের জন্য বন্ধ করে দেয়৷ এক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়ে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া গামী বিমানগুলি৷

আগে পাকিস্তানের আকাশ ছুঁয়ে কুয়ালালামপুরে চারটি বিমান যেত৷ ব্যাংকক ও নয়াদিল্লিতে আসত দুটি করে বিমান৷ এখন পাকিস্তান তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ায় এই রুটগুলিতে লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে৷ তার উপর যাত্রী হারাতে হচ্ছে৷ মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাকিস্তানের আকাশপথ৷ তাই সেই আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলিকে৷