নয়াদিল্লি: লাগাতার ভারত-পাক সীমান্তের উত্তেজনার মধ্যেই ইসলামাবাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে চলেছে নয়াদিল্লি?এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরে ফিরে উঠছে রাজধানীতে৷ বিশেষ করে মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের সাংবাদিক সম্মেলনের পর আরও জোরালো হয় এই সওয়াল৷

মঙ্গলবার বিকাশ স্বরূপ জানান, সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশকে সমস্যার পথ বের করার জন্য অনুরোধ করেছে বিশ্বব্যাংক৷ এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের তরফে বিশ্বব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়৷ যাতে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যায়৷ দুই দেশের সেই আবেদনে বিশ্বব্যাংক সাড়া দিয়েছে বলেও এদিন দাবি করেন বিকাশ স্বরুপ৷এরজন্য একজন বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ করা হয়েছে৷ যিনি এই বিষয়ে নানা সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷তাহলে কি সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তিকে সামনে রেখেই দুই দেধের সম্পর্কের বরফ গলতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনও উত্তর দেননি স্বরূপ৷ তিনি বলেন, ভারতের তরফ থেকে সমস্যা সমাধানের যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ এবং অবশ্যই তা আইন মেনে৷

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের এই জবাবের পরেই জোর ফিসফিসানি শুরু হয় রাজধানীতে৷ প্রশ্ন ওঠে লাগাতার যেভাবে সীমান্তে উত্তেজনা চলছে তার মধ্যেই কি তাহলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে? এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, আপাতত সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখে ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশকে এই সমস্যার বিকল্প কোনও সমাধান খুঁজতে বলা হয়েছে৷ যা দুই দেশ আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই খুঁজে পাবে৷

সিন্ধু নদের জলের উপর কার দখল থাকবে তা নিয়ে ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়৷ উল্লেখ্য, তারপর থেকেই নানা বিষয়ে এই চুক্তি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ দুই দেশের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে এই ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলে হাইলাইট হলেও সমস্যা থেকে কখনোই পুরোপুরি বেরনো সম্ভব হয়নি৷ সম্প্রতি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর সেই চুক্তি নতুন করে ক্ষতিয়ে দেখতে শুরু করে নয়াদিল্লি৷ আর এতেই চোটে যায় ইসলামাবাদ৷ এখানেই থামে না বিতর্ক৷ ভারতের দাবি পাকিস্তানকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সীমান্তে ছায়াযুদ্ধ চালিয়েই যাচ্ছেই৷ এরপরে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে৷ এরপরেই দুই দেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে সিন্ধু জল বণ্টন চুক্তি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে আবেদন করে৷