কটক: বৃহস্পতিবারের বারাবটি সাক্ষী থাকল যুবরাজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও ধোনির নেতৃত্ব পরবর্তী অধ্যায়ের শুভ সূচনার! বিশ্ব জয়ের ছ’ বছর পর সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন যুবরাজ সিং৷ আর নেতৃত্ব ছাড়ার দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি করলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি৷

চার বছর পর ওয়ান ডে ক্রিকেটে ফের টিম ইন্ডিয়ার জার্সি চাপিয়ে স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন ঘটালেন যুবি৷ এদিন কটকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৫০ রানের রাজকীয় ইনিংস খেলেন ‘পঞ্জাব কা পুত্তর’৷ ১২৭ বলে তিনটি ছক্কা ও ২১টি বাউন্ডারিতে সাজানো যুবরাজের ইনিংস৷ ওয়ান ডে কেরিয়ারে চতুর্থদশ সেঞ্চুরির মালিক হলেন যুবি৷ ওয়ান ডে কেরিয়ারের এটাই যুবরাজের সর্বোচ্চ স্কোর যুরজারের৷ আর ধোনি এদিন করলেন ওয়ান ডে কেরিয়ারের দশম সেঞ্চুরি৷ মাহির ১৩৪ রানের ইনিংস সাজানো হাফ-ডজন ছক্কা ও ১০টি বাউন্ডারিতে৷ যুবরাজ ও ধোনির জোড়া সেঞ্চুরিতে বরাবটি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ৩৮২ রানের টার্গেট দিল ভারত৷

২০১৪ ডিসেম্বরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে হঠাৎ অবসর নিয়ে চমকে দিয়েছিলেন ধোনি৷ এবার ইংল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগেই ওয়ান ডে এবং টি-২০-র নেতৃত্ব ছেড়ে অবাক করে দেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক৷ ধোনি সরে দাঁড়ানোয় টেস্টের মতো ওয়ান ডে এবং টি-২০ ক্রিকেটেও নেতৃত্বের ব্যাটনটা ওঠে বিরাট কোহলির হাতে৷ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম ম্যাচের ইংল্যান্ডের বিরাট জয় পায় টিম কোহলি৷ এদিন ক্যাপ্টেন ব্যর্থ হলেও ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন প্রাক্তন ক্যাপ্টেন এবং বিস্ফোরক যুবি৷ এই দু’জনের ব্যাটিং দাপটে দারুণ শুরু করেও ভারতীয় ইনিংসের শেষে মাথায় হাত ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের৷ ২৫ রানে তিন উইকেট হারিয়েও ভারত যে তাদের সামনে ৩৮২ রানে টার্গেট দেবে তা কল্পনাও করতে পারেননি ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন ইয়ন মর্গ্যান৷

চতুর্থ উইকেটে যুবির সঙ্গে জুটি বেঁধে ২৫৬ রান যোগ করেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক৷ নেতৃত্বের চাপ না-থাকলেও দলের ব্যাটিং বিপর্যয় অভিজ্ঞ হাতে সামলান ধোনি৷ যুবরাজ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ইনিংস খেললেও ধোনি প্রথম দিকে দেখেশুনে খেলেন৷ তার পর স্বমহিমায় দেখা যায় মারকুটে মাহিকে৷ চার বছর পর ওয়ান ডে তে সেঞ্চুরির স্বাদ পান ধোনি৷ তাঁর শেষ ওয়ান ডে সেঞ্চুরিট ছিল ২০১৩-তে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মোহালিতে৷

২০১১ বিশ্বকাপের পর ফের ঝলমলে যুবরাজের ব্যাট৷ পুণেতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে রান না-পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন যুবি৷ কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করে দলের বিপর্যয় সামলান অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি৷ কটকে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান৷ মাত্র ২৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় টিম ইন্ডিয়া৷ কারণ ততক্ষণে প্যাভিলিয়ে ফিরে গিয়েছে দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল, শিখর ধাওয়ান এবং অধিনায়ক বিরাট কোহলি৷ মাত্র ৮ রান করে ক্রিস ওয়াকসের বলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন প্রথম ম্যাচে ১২২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলা বিরাট৷ তার পর চতুর্থ উইকেটে ২৫৬ রান যোগ করেন যুবরাজ ও ধোনি৷

২০১১ বিশ্বকাপের পর এটাই প্রথম সেঞ্চুরি যুবির৷ চিপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষবার ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করেছিলন৷ ১১৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছিলেন যুবি৷ বিশ্বকাপে একের পর এক ইনিংস খেলে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হয়েছিলেন যুবরাজ৷ তার পর অবশ্য সময়টা ভালো যায়নি৷ ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন যুবি৷ কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাইশ গজে ফেরেন৷ কিন্তু বিশেষ দাগ কাটতে পারেননি৷ শেষবার ইংল্যান্ডের ভারত সফরের পর টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন৷ তার পর আর টেস্ট দলে না-ফিরলেও ওয়ান ডে খেলেন ২০১৩ পর্যন্ত৷ চার বছর পর ফের ওয়ান ডে ক্রিকেটে ফিরে রাজকীয় ইনিংস খেললেন যুবরাজ৷