ওয়াশিংটন: ক্রমশ বাড়ছে করোনার প্রকোপ। আমেরিকার মত উন্নত দেশও কাবু করোনার কাছে। প্রতিষেধক বেরোয়নি এখনও। তবু চেষ্টা চলছে কিছু কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলার। আর সেরকমই একটা ওষুধের জন্য ভারতের মুখে দিকে তাকিয়ে আমেরিকা সহ একাধিক দেশ।

কিছু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে কোনও কোনও রোগী ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনে সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর সেই ওষুধ আমেরিকায় যায় ভারত থেকে। সম্প্রতি, সেইন ওষুধের রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রফতানিতে ফের ছাড়পত্র দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে মঙ্গলবার সরকারি তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দেশে এই ওষুধ পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না, তা ভালো করে যাচাই করে কোনও চূড়ান্ত নেওয়া হবে। সূত্র উদ্ধৃত করে সোমবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই্ আমেরিকাবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক কথা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কোনও টীকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্বজুড়ে সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন গবেষকরা। মূলত, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ডাক্তাররা প্রেসক্রাইব করলেও, দেখা গিয়েছে করোনার চিকিৎসায় আশাপ্রদ ফল দিচ্ছে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। যার ফলে, করোনায় এই ওষুধ ব্যবহারে সবুজসংকেত মেলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ট্যুইট বার্তায় দাবি করেন, করোনা মোকাবিলায় মেডিসিনের ইতিহাসে নজির সৃষ্টি করবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। ম্যালেরিয়া এই প্রতিষেধক উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে ভারত প্রথম সারিতে।

গত ২৫ মার্চ নিঃশব্দে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনায় সংকটময় পরিস্থিতিতে এই ওষুধের যাতে আকাল না পড়ে, তার জন্যই তড়়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ দিকে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় বিশ্বজুড়ে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে ভারতের দ্বারস্থ হয়েছিল আমেরিকা। দিনকয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠানোর জন্য মোদীর কাছে আবেদন করেছিলেন তিনি। প্রথম থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, এই ওষুধই আদতে COVID-19 এর গেম চেঞ্জার।

শুধু আমেরিকা নয়। ব্রাজিল সহ আরও অনেক দেশ ভারতের কাছে এই ওষুধ চেয়েছে।