ভারত এর সঙ্গে পাকিস্তান এর এক ঘোরতর যুদ্ধ হতে পারে ভবিষ্যতে। কাশ্মীর নিয়ে অশান্তির মাঝেই এমন এক ভয়ানক ভবিষ্যতবাণী করলেন বাংলার নস্ত্রাদামুস প্রীতম দাস। যিনি এর আগে বিশ্বকাপ সহ একাধিক বিষয়ে ভবিষ্যতবাণী করেছেন। তবে এবার তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী একটু অন্যরকম। লিখলেন প্রীতম দাস।

ভবিষ্যতে ভারত এর সঙ্গে পাকিস্তান এর একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হতে পারে। আর শুধু তাই নয় এটা হয়ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা সিগন্যাল ও হতে পারে। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হোক বা না হোক, ভারত এর সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধের একটা বড় সম্ভাবনা যে আছে সেটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আমি যে ভবিষ্যতবাণী করেছি সেটার সঙ্গে অনেকেই হয়ত সহমত হতে পারেন, কেউ কেউ আগেই এমন একটা অনুমান করে থাকতে পারেন। তবে আমি এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে predictionist হিসেবে ভুলে যাই ও একজন শুধু ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কথা বলি। পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্বাসঘাতক। মিষ্টি কথা বলে ছল করে পেছন থেকে ছুরি মারার নীতিপ্রেমী। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, শরিফের সঙ্গে বাজপেয়ীর সাক্ষাৎ এর পরেই কার্গিল অ্যাটাক যার বড় উদাহরণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পাকিস্তান অত্যন্ত গোঁয়াড় প্রকৃতির। তারা কখনও সত্যিটাকে মেনে নিতে পারে না। যে দেশের মন্ত্রী বলেন যে, পাকিস্তান এর মানুষ ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকবে কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ করবে না এমন একটা দেশ যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে পারে সেটি অবিশ্বাস্য বলে মনে হয় না। তাছাড়া পাকিস্তান নাশকতার মুখোশ পরে ভারতের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই পরোক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পারমাণবিক যুদ্ধ। আমার ব্যাক্তিগভাবে মনে হয় পাকিস্তান যতই পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিক বাস্তবটা প্রয়োগ করলে বিশ্বের দরবারে ও ভারত এর কাছে পার পাবে না। তাছাড়া হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে আধুনিক বিশ্ব পরমাণু যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে যুদ্ধের সময় সেই অঙ্গীকার কতটা পালন হয় সেটাও দেখার বিষয়। বিশেষ করে পাকিস্তান এর মত দেশের থেকে। তবে পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধ করলে সেটা হবে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারার মত।

আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে চিন, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ। যাদের সঙ্গে ভারত এর একবার যুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান এর সঙ্গে চিনের বন্ধুত্ব সবার জানা। তবে আমার মনে হয় চিন কখনো চাইবে না ভারত এর সঙ্গে পাকিস্তান এর যুদ্ধ হোক কারণ, ভারতে চীনের বিশাল বাজার আছে অন্যদিকে পাকিস্তানে চীনের বিশাল ইনভেস্টমেন্ট আছে তাই দুই দেশের যুদ্ধ হলে চীনের ক্ষতি। তবে একটা কথা যে, চিন যে ধরনের আগ্রাসী মনোভাবাপন্ন দেশ ও ভারত এর প্রতি ঈর্ষাকাতর সেক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ভারত বিরোধ এর পথে হাটতে পারে।

আর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার যতই ভারত এর সাথে সদ্ভাব রেখে চলুক কিন্তু সে দেশের মানুষের বড়ো একটা অংশ ভারতবিরোধী মনোভাবাপন্ন। যা ভবিষ্যতে ভারতের চিন্তার কারণ হতে পারে বলে আমি মনে করি।

তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ভারত এর মধ্যে থাকা কিছু মানুষ পরোক্ষ বা প্রচ্ছন্ন ভাবে ভারত বিরোধিতা করে। যা অতি দুঃখজনক। ইতিহাস সাক্ষী আছে, আমাদের দেশে ইংরেজরা শাসন করলেও আমাদের ভারতীয় দের একটা বড়ো অংশ ইংরেজদের রাজকর্মচারী হিসেবে কাজ করে, তাদের হয়ে গোলামী করে। ভারতীয় রাজাদের মধ্যে ঐক্য থাকলে ইংরেজদের এই দেশ দখল করা সহজ হতো না। বর্তমান সময়ে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, পূলওয়ামা অ্যাটাকে মৃত সৈনিকদের বীর বলা হবে কেনো এই প্রশ্ন কিছু মস্তিষ্কে উদয় হয় ও তারা সেটাকে ঘটা করে সোশাল মিডিয়া পোস্ট করে। আমার মনে হয় , যারা জীবনের পরোয়া না করে, যে কোন সময় মৃত্যু হতে পারে জেনেও যারা নিজের ঘর বাড়ি পরিজনদের ছেড়ে সৈনিক এর মত একটা কঠিন দায়িত্বপূর্ণ পদকে বেছে নিয়েছেন তাকে সাহসী বীর বলবো না তো কি বলবো ? আমি আপনি পারবো ? যারা বলছে তারাও কি পারবে ? সৈনিক হওয়া তো দূর তাদের ট্রেনিং একদিন করলে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হয়ে যাবে। তাই সেই সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এর চিন্তাভাবনা দেখলে করুণা হয়।

তখন মনে হয়, তবে কি ভারতীয়রা ভারতীয় দের শত্রু ? বর্তমান সময়ে এটা খুব গভীর গম্ভীর জনক প্রশ্ন। যারা দেশের জন্য প্রাণ দেয়, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক রং নেই তাদের নিয়ে যখন অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য হয় তখন খুব সেটা দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়। তবে আগামী অথবা আসছে সময় খুব একটা ভাল না বলে মনে করি ! ভারতীয় উপমহাদেশে গরম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে! সময় মেনসন করে বলা মুশকিল , তাও যতটুকু মনে হয় যে ২০১৯ এর অক্টোবর থেকে ২০২০ সাল ভারত সহ বিশ্বের পক্ষে খুব ভালো সময় নয়। তবে এটা শুধু সম্ভাবনা মাত্র । এই প্রথম আমি আমার কমফোর্ট যোন থেকে বেরিয়ে এই ধরনের প্রেডিক্ট করছি। তবে আমি চাই সারা বিশ্বে শান্তি বজায় থাকুক কারণ, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখগ্রার প্রাণ যায়। তবে ভবিষ্যতের বা আগামী সময় খুব একটা সুবিধাজনক নাও হতে পারে!