প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি : পরিস্থিতি ভালো নয়। করোনা সংক্রমণ ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এরই মাঝে আশঙ্কার খবর শোনাল ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি বা এমআইটি। এই প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে ভারতের করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে যেতে চলেছে।

এমআইটির দাবি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সর্বাধিক করোনা সংক্রমণ দেখতে চলেছে ভারত। ফেব্রুয়ারিতে প্রতি দিন ২.৮৭ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। মোট ৮৪টি দেশের ডেটা সংগ্রহ করেছে এমআইটি। তারপরেই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষক হাঝির রহমানদাদ, টিওয়াই লিম ও জন স্টেরম্যান এই সমীক্ষা চালান। গোটা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছতে পারে ২০ কোটিতে, জানাচ্ছে তাঁদের সমীক্ষা।

তাঁরা আরও জানাচ্ছেন সঠিকভাবে চিকিৎসা না পেলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৬০ কোটি। জানা গিয়েছে, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ রাষ্ট্র হতে চলেছে ভারত। এরপরেই থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান।

এদিকে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সেখানে মৃতের সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ২ লক্ষের গণ্ডি। মহাদেশে মোট সঙ্ক্রামিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ লক্ষ ৫১ হাজার ৬০৬ জনের।

উল্লেখ্য, করোনার জেরে সারা বিশ্বে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ মানুষের। এরমধ্যে শুধুমাত্র ইউরোপেই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৫ জন। এই মহামারিতে ইউরোপেই মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ইউরোপে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ব্রিটেন। সেখানে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৪ হাজার ২৩৬ জনের। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮৬৯ জন। এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৯২০ জন ও স্পেনে মৃত্যু হয়েছে ২৮,৩৮৮ জনের।

সারা পৃথিবীতে আমেরিকায় করোনার জেরে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৩০৬ জনের। ব্রাজিলে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৮৭ জনের, ব্রিটেনে মৃত্যুর অঙ্খ্যা ৪৪ হাজার ২৩৬। এরপরে রয়েছে ইতালি, সেখানে মৃত ছাড়িয়েছে ৩৪ হাজার ও মেক্সিকোতে মৃতের সংখ্যা ৩১ হাজার ১১৯ জন।

এদিকে, মঙ্গলবারই মহারাষ্ট্রের পুনের সেরাম ইন্সটিটিউট নয়া আবিষ্কার করে। তাদের তৈরি বিশেষ কিট ঘন্টায় ৩২টি করোনা পরীক্ষা করতে সক্ষম বলে জানানো হয়। মঙ্গলবারই এই কিট লঞ্চ করা হয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে। কিটটি স্বয়ংক্রিয় বলে খবর। অটোমেটেড মলিকিউলার কোভিড টেস্ট মেশিনটি উদ্বোধন করে সংস্থার সিইও অদর পুনাওয়ালা জানান, এই মুহুর্তে ভারতে এরকম কিট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই টেস্ট কিট সেরাম ইন্সটিটিউট ও মাইল্যাব ডিসকভারির যৌথ প্রয়াস। প্রতিটি ল্যাবকে ১০০০ টাকা করে প্রতি টেস্ট দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে দিতে হবে ২৫০০ টাকা।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব