ফাইল ছবি

ঢাকাঃ  রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের পাশে দাঁড়াল ভারত। রোহিঙ্গাদের জন্যে রাখাইনে বাড়ানো ২৫০ ঘর মায়ানমার প্রশাসনকে হস্তান্তর করল ভারত। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত চায় রোহিঙ্গারা আবার মায়ানমারে ফিরে আসুক। আর রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রেই ভারতের এহেন উদ্যোগ।

মায়ানমারে নির্যাতনের মুখে সেখান থেকে পালিয়ে আসে ১০ লক্ষ্যেরও বেশি রোহিঙ্গা। এরপর থেকে প্রায় দুবছর কেটে গিয়েছে বাংলাদেশেই আশ্রয় নিয়ে রয়েছে লক্ষাধিক এই রোহিঙ্গা। যার ফলে অতিরিক্ত চাপ বেড়েছে বাংলাদেশ সরকারের উপর। যদিও গত কয়েক বছর আগে মায়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি করে। যেখানে বলা হয় যে মায়ানমার সমস্ত রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে। যদিও তা বাস্তব হয়নি। বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে দুর্দশার মধ্যে দিন কাটলেও রোহিঙ্গারা ফিরতে চাইছে না। কারণ তাদের ধারণা, ফিরে গেলে আবারও তাদের উপর অত্যাচার চালাবে মায়ানমার সেনাবাহিনী। আর সেই আতঙ্কেই বাংলাদেশেই থেকে যাচ্ছে তাঁরা।

রাষ্ট্রসংঘের মত বাংলাদেশও মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি ওপর জোর দিয়ে আসছে। ভারতীয় ওই আধিকারিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ তৈরি করতেই তারা আড়াই কোটি ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে। যার অংশ হিসেবে সেখানে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

উত্তর রাখাইনের শোয়ে জার, কেন চং টং এবং নান্ট থার টং গ্রামে বানিয়ে দেওয়া ওই ২৫০টি বাড়ি মায়ানমার প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত সৌরভ কুমার। চলতি সপ্তাহে এই বাড়িগুলি সে দেশের প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভারতীয় আধিকারিকরা রয়টার্সকে আর জানিয়েছেন যে তাদের দেওয়া সহযোগিতার টাকায় রাখাইনে স্কুল ও বাজার নির্মাণের মত ২১টি প্রকল্পের একটি প্রস্তাবিত তালিকা মায়ানমার প্রশাসন দিয়েছে। সেই তালিকা মতো ভারত সে দেশের আরও উন্নয়নমূলক কাজ করবে বলে দাবি করেছে ভারতীয় আধিকারিকরা।