নয়াদিল্লি: অর্থনীতিতে নয়া রেকর্ড গড়ল ভারত। সেটা আবার ঘটল অর্থনীতিতে যুগান্তকারী নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোদী সরকারের আমলেই। রেকর্ড সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় করে নজির গড়ল ভারত।

রিজার্ভ ব্যাংকের পেশ করা তথ্য অনুসারে চলতি মাসের আট তারিখ পর্যন্ত ভারতে সঞ্চিত থাকা বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি ডলার বা ৪০০ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আগে কখনও সঞ্চিত হয়নি ভারতে। গত শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্য পেশ করেছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক।

নোট বাতিলের কারণে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। একইসঙ্গে আহামরি লাভ হয়নি নোট বাতিল করে। এই নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীকে। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নোট বাতিলে দীর্ঘ মেয়াদে সুবিধা হবে বলে সাফাই দিতে হয়েছে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে। এরই মাঝে এই ধরণের চমকপ্রদ তথ্য শাসক শিবিরে কিছুটা হলেও অক্সিজেন যে জোগাবে তা বলাই বাহুল্য।

মোদী জামানায় এই রেকর্ড হলেও বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয় অর্থনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর সময় থেকেই। এক দশক আগে ২০০৭ সাল থেকে বৈদেশিক মুদ্রা মজুত করার পরিকল্পনা নেয় ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক। ওই বছরের এপ্রিলে আরবিআইয়ের হাতে ছিল যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত ছিল ভারতীয় মুদ্রায় সেটির মূল্য ২০ হাজার কোটি। ২০০৮ সালের এপ্রিলে অর্থাৎ ১ মাসে সেই সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে। এরপরেই বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। ভারতে বিশেষ প্রভাব না পড়লেও ঝটকা একটা লেগেছিল। সেই ধাক্কা সামাল দিতে বেরিয়ে যায় কিছু সঞ্চিত বিদেশি অর্থ। এরপর দ্বিতীয় ইউপিএ জামানার শেষের দিকে টাকার দাম পড়তে থাকে উচ্চ গতিতে। সেই সময়েও কোপ পরে সঞ্চয়ে। মূলত সেই সকল কারণের জন্যেই ৩০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় করতে লম্বা সময় নিল রিজার্ভ ব্যাংক।

এই নয়া রেকর্ডের ফলে সমগ্র বিশ্বে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। প্রথম দু’টি স্থান দখল করে রেখেছে চিন এবং জাপান। ব্রিকস-এর দেশগুলির মধ্যে ভারতের স্থান তৃতীয়। আগে রয়েছে চিন এবং রাশিয়া। চলতি অর্থবর্ষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়া এই সাফল্যের একটা বড় কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও দেশিয় উৎপাদন এবং বিদেশি ঋণের অনুপাত কমে যাওয়াতেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড স্টারলিং ও ইয়েন সঞ্চয় করে রাখে। এই সবকিছু মিলিয়েই উক্ত হিসেব পেশ করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। এছাড়াও জমিয়ে রাখা হয় সোনা। বর্তমানে আরবিআই-এর কাছে দুই হাজার কোটি ডলারের সোনা সঞ্চিত রয়েছে।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।